বারাণসী-কলকাতা ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে, শুরু সয়েল টেস্টিং

Published:

Varanasi Kolkata six lane expressway

অনন্যা সরকার, ঝাড়খন্ড: সড়কপথে কলকাতা ও বারাণসীর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সুদৃঢ় করার জন্য বারাণসী-কলকাতা সিক্স-লেন গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে (Varanasi Kolkata Six Lane Expressway) নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের চাতরায় এই সড়কপথের নির্মাণকার্যে জোরদার তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। চাতরা-ইটখোরি প্রধান সড়কের তাপেজের কাছে এক্সপ্রেসওয়েটির জন্য এখন মাটি পরীক্ষার (Soil Testing) কাজ চলছে। এই পদক্ষেপের ফলে বারাণসী-কলকাতা সিক্স-লেন এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়নের কাজ আরও একধাপ এগিয়ে গেল। 

দ্রুত এগোচ্ছে বারাণসী-কলকাতা সিক্স-লেন গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ এবং ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগের থেকে প্রথম ধাপের ছাড়পত্র পাওয়ার পর নির্মাণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারে। বারাণসী-কলকাতা ছয়-লেন প্রকল্পের অধীনে ঝাড়খণ্ডের ছয়টি জায়গায় জংশন নির্মিত হবে বলে জানা গেছে। এই জংশনগুলির মধ্যে দুটি থাকবে চাতরা জেলায়। জংশন তৈরির জন্য ডাড়া এবং সিমারিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, হাজারিবাগ ও রামগড়ে একটি এবং বোকারোতে দুটি জংশন নির্মাণ করা হতে পারে। এই জংশনগুলি এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

আরও পড়ুন: সৈকত শহর থেকে উত্তরবঙ্গ! চালু হল দিঘা-শিলিগুড়ির একমাত্র এসি বাস, জানুন রুট

এর পাশাপাশি, সদর ব্লকের ডাড়া গ্রামে একটি স্থায়ী এনএইচএআই (NHAI) ক্যাম্প অফিস তৈরি করা হবে বলেও শোনা যাচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে অফিসের পাশাপাশি এখানে রেস্তোরাঁ, হোটেল, অ্যাম্বুলেন্স, প্রতিবন্ধীদের জন্য শৌচাগার সহ একাধিক সুবিধা উপলব্ধ হতে চলেছে। এরফলে ডাড়া গ্রামে প্রভূত উন্নতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এই ক্যাম্প থেকে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের প্রজেক্টগুলিকেও তদারকি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভারতমালা (Bharatmala) প্রকল্পের আওতাভুক্ত এই এক্সপ্রেসওয়ের কারণে চাতরা জেলার ৬৭টি গ্রামে সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাতরায় ১৮টি, হান্টারগঞ্জে ২৮টি পাথালগড্ডায় ২টি এবং সিমারিয়ায় ১৯টি গ্রাম।

আরও পড়ুন: তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছরে জারি সমস্ত বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের! ফের ভেরিফিকেশন?

খরচের দিক থেকে দেখলে, ঝাড়খণ্ডের প্রকল্পটিকে ছয়টি প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে আট, নয় এবং দশ নম্বর প্যাকেজটি চাতরা জেলার অন্তর্গত। অনুমান করা হচ্ছে যে, জমি অধিগ্রহণ ও সড়ক তৈরির জন্য এখানে ব্যয় হবে প্রায় ২,৮৫৯ কোটি টাকা। আবার, কেউ হাজারিবাগের ১১ নম্বর প্যাকেজের আনুমানিক খরচ হতে চলেছে ১,২৫৬ কোটি টাকা, রামগড়ের ১২ নম্বর প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৭১৮ কোটি টাকা এবং বোকারোর ১৩ নম্বর প্যাকেজের জন্য ব্যয় হতে পারে ১,৩১৭ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, বারাণসী – কলকাতা ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়েটির মোট দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৬২০ কিলোমিটার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে চাতরা জেলায় প্রায় ৮৪ কিলোমিটার জুড়ে এটি অবস্থান করবে। উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে শুরু হয়ে এই এক্সপ্রেসওয়েটি বিহারের কৈমুর, রোহতাস, ঔরঙ্গাবাদ এবং গয়ার ওপর দিয়ে প্রবেশ করবে চাতরায়। এরপর এটি হাজারিবাগ, রামগড় এবং বোকারো হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পা রাখবে।