ভারতের ‘চিকেন নেক’-র কাছে সামরিক তৎপরতা বাংলাদেশের! বসছে শক্তিশালী রাডার

Published:

Siliguri Corridor

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কৌশলগত ভাবে ভারতের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor) বা চিকেন নেকের খুব কাছেই বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে (Lalmonirhat Airport) এবার যুদ্ধের বহর সাজছে। সূত্রের খবর, সেখানে অত্যাধুনিক আকাশপথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর শক্তিশালী রাডার সিস্টেম বসানোর কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। আর এই প্রকল্পে আমেরিকার সরাসরি মদত রয়েছে বলেই মত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দাঁড় করাচ্ছে।

লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির গুরুত্ব

বলে রাখি, এই বিমানঘাঁটিটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় একেবারে গা ঘেঁষেই এর অবস্থান। ১১৬৬ একর জুড়ে বিস্তৃত এই ঘাঁটির রানওয়ে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া এই বিমানঘাঁটি দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এখানে বিশাল সামরিক পরিকল্পনাগত কাজ শুরু হয়।

একাধিক সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, লালমনিরহাট এয়ারবেসে এবার বসানো হচ্ছে মিলিটারি-গ্রেড রাডার, যা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় বায়ুসোনার উপর নজরদারি চালাতে পারবে। পাশাপাশি এখানে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বসানো হচ্ছে, যেগুলি আকাশপথে কোনও হামলা রুখে দেওয়ার জন্য অত্যাধুনিক ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আর তৃতীয়ত, যুদ্ধবিমান বা ড্রোন লুকিয়ে রাখার জন্য গতবছর এখানে একটি বিশাল কংক্রিট হ্যাঙ্গার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

নেপথ্যে আমেরিকা?

তবে ভারতীয় সামরিক সূত্রগুলো দাবি করছে, লালমনিরহাটের পাশাপাশি বাংলাদেশের বগুড়া বিমান ঘাঁটির আধুনিকীকরণের কাজ এবার দ্রুতগতিতে চলছে। আর এই গোটা প্রক্রিয়ায় আমেরিকা সাহায্য করছে বলেও খবর। কিন্তু ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে সীমান্তের এত কাছাকাছি আমেরিকার সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক শক্তি যে নয়াদিল্লির উপর একটু হলেও চাপ তৈরি করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ভোট গণনা শুরু, তার আগেই প্রমাণ সহ ভয়াবহ অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর

অভিযোগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ২০২৫ সালের ২৬ মে বাংলাদেশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, লালমনিরহাট বিমান ঘাঁটি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। তবে বর্তমানে এই সক্রিয়তা সেই দাবি সম্পূর্ণ উল্টো ছবি তুলে ধরছে। আবার ভারতের বিদেশ রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং গত বছর লোকসভায় জানিয়েছিলেন যে, ভারত সরকার বাংলাদেশের এই গতিবিধির উপর নজর রাখছে। আর যেহেতু শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল। তাই এই সরু পথটি ভারতের নিরাপত্তার জন্যও বড়সড় প্রশ্ন। তবে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এই দুই জায়গাতে যেভাবে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে, তাতে ভারতীয় বায়ুসেনার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।