ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়, পাকিস্তানে খতম হিজবুল কমান্ডার সাজ্জাদ

Published:

Sajjad Ahmed

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার আরও এক জঙ্গির রহস্য মৃত্যু পাকিস্তানে (Pakistan)। হিজবুল মুজাহিদিনের প্রবীণ কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদকে (Sajjad Ahmed) রাজধানী ইসলামাবাদে অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীরা খতম করেছে বলেই সূত্রের খবর। জম্মু কাশ্মীরে একাধিক নাশকতার মাস্টারমাইন্ড এই সাজ্জাদের মৃত্যুতে সীমান্ত পাড়ের নেটওয়ার্কগুলি এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে।

সাজ্জাদের উত্থান কীভাবে?

জানিয়ে দিই, সাজ্জাদ আহমেদ আদতে জম্মু কাশ্মীরের বারমুল্লা জেলার বাসিন্দা। কয়েক দশক আগে সে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের পালিয়ে যায়। আর সেখানে গিয়েই সে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। আর দ্রুত সংগঠনের শীর্ষস্তরে নিজের জায়গা পাকাপাকি করে নেয়। উপত্যকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানো থেকে শুরু করে নাশকতার ছক কষার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রের খবর, সাজ্জাদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে ছিল। গত বেশ কয়েকদিন ধরে ইসলামাবাদে আত্মগোপন করে ছিল সে। তবে সেখানে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বন্দুকধারী তাঁকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ মহলে কান পাতলে খুনের তথ্যই উঠে আসছে।

উল্লেখ্য, তাঁর মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গত ২৬ এপ্রিল খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ল্যান্ডি কোটাল এলাকায় লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি একইভাবে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতীদের কাছে নিহত হয়েছিল। আর এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই শীর্ষ জঙ্গীর এরকম টার্গেট কিলিং পাকিস্তানে আশ্রিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির মধ্যে যে গৃহযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: মমতার নিশানায় গুজরাটি যুবক, কে সে? জানা গেল পরিচয়

এদিকে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনার পেছনে বিশেষ করে তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, জঙ্গি সংগঠনগুলির নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ লড়াই বা ক্ষমতার দখলদারি। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং কানাডার মাটিতে একের পর এক ভারত বিরোধী জঙ্গির রহস্য মৃত্যু ঘটছে। যাদেরকে অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীরাই খতম করছে। আর তৃতীয়ত, অনেক সময় জঙ্গীরা অকেজো হয়ে পড়লে বা আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিজেই প্রমাণ লোপাটের জন্য এদেরকে সরিয়ে দিচ্ছে।