সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শেষ হয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব (West Bengal Election 2026)। আগামী ৪ মে ফল প্রকাশ। তবে ইভিএম-এ যাতে কারচুপি না হয় তার জন্য আগে থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গতকাল তিনি ভিডিও বার্তায় তাঁর কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং স্ট্রং রুমে কড়া পাহারা দিতে বলেছেন। এমনকি নিজেই রাত আটটার সময় ঝড়-জল মাথায় রেখে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি নিজেই। আর সেখানেই চলে বিজেপির বিক্ষোভ। বেরিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বৃহস্পতিবার শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে টানা বিক্ষোভ দেখায় রাজ্যের শাসক দল। আনুমানিক ৪ ঘণ্টা পর স্ট্রং রুম থেকে বের হন মমতা, এবং বেরিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন গুজরাটি যুবক রয়েছে।” এমনকি গাড়িতে বসে মোবাইলে তিনি একটি ভিডিও দেখান। যেখানে ওই যুবককে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, “যে যুবক স্লোগান দিচ্ছে, চেঁচামেচি করছে সে তো গুজরাট থেকে এসেছে। স্ট্রং রুমের বাইরের এলাকা ঝগড়া করার জায়গা নয়। এটা আমার জায়গা। আমি চাইলে ১০,০০০ লোকও আনতে পারি।”
প্রশ্ন উঠছে, কে ওই গুজরাটি যুবক? যদিও সে নিজেই মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছে। বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর নাম দীপ প্রজাপতি। তাঁর কথায়, “এটা ভারতবর্ষ। আমি এই দেশের বাসিন্দা। আমি যে কোনও জায়গায় যেতে পারি। বাংলায় আমার আত্মীয়ের বাড়ি। তাই আমি এখানে বেড়াতে এসেছি। আর পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা সম্পর্কে আমি ভালোভাবে জানি। পরিস্থিতি দেখেই প্রতিবাদে নেমেছি।” তবে সে কোথাকার বাসিন্দারা জিজ্ঞাসা করা হলে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর পাননি সাংবাদিকরা।
আরও পড়ুন: ঘনাচ্ছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, বিকেলে কলকাতা সহ ৭ দক্ষিণবঙ্গের জেলায় ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডব
উল্লেখ্য, ভোট মিটতেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে রাজ্যের শাসকদল ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন্দল বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পাহারা থাকাকালীন তৃণমূল–বিজেপির সংঘর্ষ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন যে, বিজেপি কারচুপি করতে পারে। তাই কর্মীদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। এদিকে তাঁর কেন্দ্রেই বিক্ষোভ। সেই কারণে শুক্রবার সকাল থেকে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আর বাইরে গাড়ি চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরেও ঘিরে ফেলেছে প্রশাসন। আর সেখানে আরও নজরদারি বাড়াচ্ছে কমিশন।










