ভারতকে রুখতে চিনের কাছ থেকে হ্যাঙ্গর সাবমেরিন পেল পাকিস্তান! কতটা ভয়ানক?

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তানকে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সবরকমভাবে সাহায্য করেছে চিন। সেই ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। সদ্য পাকিস্তানে পৌঁছেছে চিনের তৈরি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হ্যাঙ্গর সাবমেরিন (Pakistan Hangor-class submarine) । মূলত হাঙ্গর শব্দ থেকে এসেছে এই সাবমেরিনের নাম। আরব সাগরে নিজেদের শক্তিশালী করে তুলতেই চিনের কাছ থেকে এই সাবমেরিন কিনেছে পাকিস্তান। এখন প্রশ্ন, ড্রাগনের হাতে তৈরি পাকিস্তানের এই সাবমেরিন কতটা ক্ষমতাশালী, কতটা বিপদজনক? সর্বোপরি, ভারতের জন্য এই সাবমেরিন কতটা ভয়ানক?

পাকিস্তানের এই সাবমেরিন কতটা বিপদজনক?

চিনের হাতে তৈরি যে সাবমেরিনটি পাকিস্তান পেয়েছে সেটা মূলত টাইপ 039A ইউয়ান শ্রেণীর। করাচি বন্দরে এই সাবমেরিন পৌঁছতেই একেবারে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তান সেনা। কিন্তু প্রশ্ন হল, ঠিক কতটা শক্তিশালী এই সাবমেরিন? প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হ্যাঙ্গর শ্রেণীর সাবমেরিনটি পাকিস্তানের অন্যতম আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন হিসেবে পরিচিত। এই সাবমেরিনের অন্যতম বড় সুবিধা হল, এটি তার এআইপি সিস্টেম ব্যবহার করে দুই সপ্তাহের জন্য জলের নিচে থাকতে পারে।

অন্যান্য সাধারণ সাবমেরিনের তুলনায় এই সাবমেরিনের ক্ষমতা অনেকটাই বেশি। এটি জরুরী ভিত্তিতে জলের নিচে লুকিয়ে পড়তে পারে চোখের পলকে। পাকিস্তানের হাতে থাকা এই সাবমেরিনটি 533 মিমি টর্পেডো টিউব দিয়ে সাজানো। এছাড়াও অ্যান্টি শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র চালাতে সক্ষম এই সাবমেরিন। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের বহরে অন্তত চারটি হ্যাঙ্গর সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সেগুলির কাজ হবে পাকিস্তানের সি দিনাল কৌশলকে শক্তিশালী করা এবং আরব সাগরে ভারতীয় নৌ-বাহিনী অভিযানকে রুখে দেওয়া।

অবশ্যই পড়ুন: ব্ল্যাকমেইল করে লাগাতার তরুণীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার আর জি করে কর্মরত সেনা জওয়ান

তবে জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, জলের নিচে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে ভারত। এক্ষেত্রে ভারতের ধারে কাছে নেই পাকিস্তান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভারতের অরিহান্ট ক্লাসের মতো পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন রয়েছে। যা সাধারণত প্রচলিত বৈদ্যুতিক সাবমেরিনের তুলনায় ঢের গুণে ভাল। পাকিস্তানের ওই চিনা সাবমেরিন যেখানে দু সপ্তাহ পর্যন্ত জলের নিচে থাকতে পারে সেখানে ভারতের এই পারমাণবিক সাবমেরিন মাসের পর মাস জলের নিচে থাকতে পারে। বলাই বাহুল্য, পাকিস্তানের হ্যাঙ্গর সাবমেরিন শক্তিশালী হলেও ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিনের কাছে সেটি একপ্রকার নস্যি।