বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে পাকিস্তান (Pakistan)। আর তাতেই একেবারে ল্যাজে গোবরে অবস্থা ইসলামাবাদের। শুধু তাই নয়, বিপাকে পড়ে নয়া দিল্লির ভাগের উকিলের টাকাও জোগাতে হচ্ছে পশ্চিমের দেশকে। তাতে সবদিক থেকে একেবারে প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে ভারতের প্রতিবেশী। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের জন্য লড়াই করার পাশাপাশি ভারতের জন্য আইনজীবী নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় আইনি লড়াইয়ের খরচ যোগাতে অন্তত 6 লক্ষ ডলার খসেছে পাকিস্তানের। আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হলে খরচের অঙ্কটাও বাড়বে।
সালিশি আদালতের রায় উড়িয়ে দিয়েছে ভারত!
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকেই পাকিস্তানের সাথে হওয়া সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত করে রেখেছে ভারত। ফলে, সিন্ধু চুক্তি অনুযায়ী, জল ছাড়ার দাবি জানিয়ে আগেই পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশনে মামলা দায়ের করে রেখেছিল পাকিস্তান। তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চলছিল আইনি লড়াই। ভারত অবশ্য এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয়নি। ফলে একদিক থেকে ভারতের পক্ষের উকিল ও আইনি সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে। গুনতে হয়েছে মোটা টাকা।
দ্য ন্যাশনালিস্ট ইন্টারেস্ট এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিকে সালিশি আদালতকে স্বীকৃতিই দেয়নি ভারত। বরং আদালতের রায় উড়িয়ে দিয়ে ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য বা রায় দিতে পারে না পিসিএ। সাধারণত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আদালতে আইনি লড়াই চলাকালীন দুপক্ষকে খরচের সমানভাগ বহন করতে হয়। তবে এক পক্ষ অংশ না নিলেও চলতে পারে সওয়াল জবাব। আর তাতেই বিপাকে পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান।
অবশ্যই পড়ুন: শিল্পে সমৃদ্ধ হবে বাংলা! আজ হাওড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার শিলান্যাসে অমিত শাহ
একদিক থেকে প্রতিনিয়ত আইনি লড়াইয়ের জন্য অর্থ ঢালতে হচ্ছে ইসলামের দেশকে। তার উপর দেশে আর্থিক সংকট। এমন পরিস্থিতিতে ভারত আবার সালিশি আদালতকে মান্যতাই দিচ্ছে না। নয়া দিল্লির বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না। কোনও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যার নিষ্পত্তি হতে পারে। ঠিক সে কারণেই এই ট্রাইবুন্যালকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দেওয়া সমস্ত রায় বাতিল করে দিয়েছে ভারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সালিশি আদালতের সিদ্ধান্তে কাজ হবে না জেনে টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। তাতে খুব শীঘ্রই দেউলিয়া হওয়ার দোরগোড়ায় এসে পৌঁছবে পাকিস্তান। সবচেয়ে বড় কথা, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত থেকে পাকিস্তান সরে যেতে বাধ্য হলে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে না ইসলামাবাদের হাতে।










