সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গুলিবিদ্ধ হলেন পাকিস্তানের (Pakistan) সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা (Amir Hamza)। সূত্রের খবর, লাহোরে একটি সংবাদমাধ্যমের অফিসের বাইরে তাঁকে অজ্ঞাত হামলাকারীরা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। হামজার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভারতে হামলার পেছনে একাধিক যোগসূত্র রয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতার।
কে এই আমির হামজা?
বলে রাখি, সন্ত্রাসী হাফিজ শহীদের সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবা সন্ত্রাসী সংগঠনটি গঠন করেছিলেন এই আমির হামজা। ভারতে সংগঠিত একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় তাঁর যোগসূত্র রয়েছে। এমনকি ভারতের বাইরেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর হাত রয়েছে বলেই জানা যায়। আমির হামজা আফগান মুজাহিদিনদের এক প্রবীণ সদস্য। তিনি বিশেষ করে তাঁর কট্টর বক্তৃতা এবং কঠোরপন্থী লেখার জন্যই পরিচিত। এমনকি তিনি একসময় লস্কর-ই-তৈবার আনুষ্ঠানিক প্রকাশনার সম্পাদকও ছিলেন। ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘কাফিলা দাওয়াত আওর শাহাদাত’ সহ বেশ কিছু বইও লিখেছেন তিনি। যেখানে সন্ত্রাসী কাজকর্মের একাধিক নিদর্শন তুলে ধরেন তিনি।
তবে লস্কর-ই-তৈবার সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থার জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনের উপর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের আর্থিক দমন অভিযানের পর ২০১৮ সালে হামজা লস্কর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। আর পরবর্তী সময়ে তিনি জম্মু কাশ্মীর এবং অন্যান্য জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জইশ-ই-মানকাফা নামে আরও একটি পৃথক জঙ্গি সংগঠন গঠন করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর হামজা এখনও পর্যন্ত লস্করের নেতৃত্বদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
আরও পড়ুন: ভোটের দায়িত্বে এসে ফলতায় অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের! উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ
তথ্য দিয়ে রাখি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং আমির হামজাকে তাঁদের ঘোষিত নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীদের তালিকায় যুক্ত করে। মনে করা হয়, তিনি লস্কর-ই-তৈবার কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালন করতেন এবং তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে সদস্য সংগ্রহ, আটক জঙ্গিদের মুক্তির জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে কে বা কারা তাঁর উপর গুলি চালাল সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও তথ্য হাতে আসেনি।










