এখন দাম কমলেও ৯ লাখে পৌঁছবে সোনা! কারণ জেনে নিন 

Published:

Gold Price

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: টানা ঊর্ধ্বগতির পর দিনের পর দিন দরপতনে (Gold Price) আকাশের চাঁদ ছুঁয়েছে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীরা। সোনা কি তাহলে তার জৌলুস আবার হারাচ্ছে? নাকি এটি কোনও বড় লাফের প্রস্তুতি? সাম্প্রতিক সময়ে সোনার বাজারে যে হারে পতন দেখা যাচ্ছে, তা গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। শীর্ষস্তর থেকে প্রায় ২১ শতাংশ তলানিতে ঠেকছে হলুদ ধাতু যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বিশেষজ্ঞরা (International Market) এই পরিস্থিতিকে নিরাপদ বলেই দেখছেন। আবার কেউ কেউ ভবিষ্যৎ এর জন্য ভয়াবহ প্রেডিকশন করছেন! আগামী দিন ঠিক কী হতে পারে? জানুন।

বর্তমানে সোনার বাজারের পরিস্থিতি

আজ অর্থাৎ ২৪ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আনুমানিক ১.৫ শতাংশ তলানিতে ঠেকে প্রতি আউন্স ৪৩৩৫.৯৭ মার্কিন ডলারে ট্রেন্ড করছে। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেই দাম ছিল ৫৫৯৪.৮২ ডলার, যার তুলনায় এখন অনেকটাই কম। টেকনিক্যাল ভাষায় একে বেয়ার মার্কেট বলা হচ্ছে। এমনকি গত এক সপ্তাহে সোনার যা দরপতন হয়েছে তা ১৯৭০ এর দশকের পর সবথেকে বৃহত্তম।

৯ লক্ষ টাকা ছুঁতে পারে সোনার দাম?

এদিকে বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখন বিশেষজ্ঞরা অনড়। সম্প্রতি ইয়ার্দেনি রিসার্চের প্রেসিডেন্ট এডি ইয়ার্দেনি সিএনবিসি-কে এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি বলছেন যে, এই দশকের শেষের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ সালে মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ১০ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। আর ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে ১০ গ্রাম সোনার দাম তখন প্রায় ৯.৩ লক্ষ টাকা দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন: ছোট ডিউটি গাড়ি থেকে বাস—সব ভাড়ায় ১০% বৃদ্ধি, বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পরিবহন দফতরের

আসলে সোনার দাম ভবিষ্যতে রেকর্ড ছোঁয়ার পিছনে বিশেষজ্ঞরা কিছু কারণ উল্লেখ করছেন। প্রথমত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের ভাণ্ডারে কাগজের মুদ্রার বদলে এখন সোনার মজুদ বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক আর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে সোনাকেই সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। এবং তৃতীয়ত, এশিয়ার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা কেনার আগ্রহ গত কয়েক মাসে অনেকটাই বেড়েছে। এদিকে এডি ইয়ার্দেনি ২০২৬ সালের জন্য তাঁর আগের লক্ষ্যমাত্রা ৬০০০ ডলার থেকে কিছুটা কমিয়ে এবার ৫০০০ ডলারে নামিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান দামের তুলনাও তাও ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, আগামী দিন যে সোনার দাম আবারও বাড়তে পারে এবং বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

google button