মালদায় সমুদ্র সৈকতের আমেজ, ঘুরে আসুন ‘উত্তরবঙ্গের দিঘা’ ভাটরা বিল থেকে

Published:

Bhatra Bill Tourist Destination

অনন্যা সরকার, কলকাতা: উত্তরবঙ্গ বললে প্রথমেই মাথায় আসে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, ঝর্না। তবে যদি বলে এখানে পাবেন সমুদ্রের আমেজও! কী অবাক হচ্ছেন? কথাটা কিন্তু ভুল নয়। উত্তরের মালদহ জেলায় গৌড়, গাজল বা আদিনার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির পাশপাশি রয়েছে এমন একটি অফবিট (Offbeat Malda) স্পট, যাকে স্থানীয়রা ভালোবেসে ডাকেন ‘উত্তরবঙ্গের দিঘা’ বলে। এটি হল ভাটরা বিল (Bhatra Bill)। মালদহের কয়েকশো কিলোমিটারের মধ্যে কোনও সমুদ্র নেই, কিন্তু বর্ষাকালে এই বিলে বেড়াতে এলে পাবেন সমুদ্র সৈকতের আমেজ। আসুন জেনে নিই, এই অফবিট পর্যটন কেন্দ্রটির সর্ম্পকে যাবতীয় তথ্য। 

সমুদ্র সৈকতের অনুভূতি পাবেন ভাটরা বিলে

উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে বহু নদী বয়ে গেছে, তবে সমুদ্রের চিহ্নমাত্র নেই। কিন্তু সমুদ্র সৈকতের মজা পেতে ভাটরা বিলে কিছু সময় কাটিয়ে আসতেই পারেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে এক অন্যরূপ দেখা যায় এই বিলের। ওল্ড মালদার সাহাপুর পঞ্চায়েত এলাকার দক্ষিণে অবস্থিত এই ভাটরা বিল আয়তনে এতটাই বিশাল যে এপার থেকে ওপার ঠাওর করা যায় না। শীতকালে জল কিছুটা কমে গেলেও বর্ষায় জলে ফুলে ফেঁপে ওঠে বিলটি। তখন তীরে এসে আছড়ায় বড় বড় ঢেউ। 

আরও পড়ুন: হয়ে যেতে পারে নিশ্চিহ্ন! তার আগেই ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে ছোট দ্বীপ থেকে

মালদা ছাড়াও, দুই দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে ভাটরা বিলে। এই‘মিনি দিঘা’-এ এসে অনেকেই করেন নৌকা বিহার। মানুষজনের ভিড় বাড়াতে আশেপাশে খাবার ও নানা জিনিসের অস্থায়ী দোকানও গড়ে উঠেছে। উপার্জনের সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয়রা। ভাটরা এলাকায় প্রায় কয়েক হাজার কিলোমিটার অঞ্চলের নিচু জমিতে বর্ষায় টাঙ্গন নদীর জল এসে টইটুম্বুর করে দেয় এই বিলকে, যা দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকের দল। 

আরও পড়ুন: বর্ষায় জেগে ওঠে এই আশ্চর্য সুন্দর ঝর্ণা, ঘুরে আসুন বীরভূমের খয়েরবানির জলধারা

কীভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে মালদহের ভাটরা বিলে আসার জন্য হাওড়া/শিয়ালদা থেকে মালদহগামী যেকোনও ট্রেনে করে মালদহ টাউনে পৌঁছাতে হবে। তারপর টোটো রিজার্ভ করে ভাটরা বিলে আসা যায়। মালদহের রথবাড়ি মোড় থেকে রিজার্ভ টোটো সহজেই পেয়ে যাবেন। সড়কপথে আসতে চাইলে, ইটহারা ও গাজোল ছাড়িয়ে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস রোডের সূর্যাপুর দিয়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা গেলেই পৌঁছে যাবেন ভাটরা বিল। তবে দিনের বেলায় আসতে হবে, শুনশান জায়গা বলে সন্ধ্যার পর এখানে থাকার অনুমতি পাবেন না।