বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বসন্ত ক্ষণিকের অতিথি। তাই সে আগেই তলপি তলপা গুটিয়ে পালিয়েছে (Lifestyle)। বর্তমানে গরমের প্রখর দাবদাহের সাথে লড়তে হচ্ছে বঙ্গবাসীকে। দিন দিন গ্রীষ্মের পারদ যেভাবে চড়ছে তাতে এসি বা কুলার না চালিয়ে থাকতে পারছেন না অনেকেই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এসি নাকি কুলার কোনটা কেনা উচিত (AC Vs Air Cooler)? স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোনটি ক্ষতিকর? কী বলছেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা?
এসি না কুলার স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোনটি ক্ষতিকর?
প্রখর রোদে দুপুরে বাইরে বেরোনো দুষ্কর। গ্রীষ্মের দাবদহে একেবারে নাজেহাল অবস্থা সকলের। এমতাবস্থায় এসি বা কুলার বিলাসিতা নয় বরং প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। তবে যদি আবহাওয়ার দিক থেকে ভাবা যায়, সেক্ষেত্রে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলিতে যেহেতু আর্দ্রতা বেশি তাই এখানে এয়ার কুলারের তুলনায় এসি বেশি কার্যকর। তবে বাংলার যেসব জায়গায় তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব বেশি সেখানে এসির তুলনায় এয়ার কুলার বেশি কাজে দেয়।
গরমের হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে আজকের দিনে কমবেশি প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িতে এসি বা কুলার লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন কোনটা আপনার শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর? এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁরা এসির দাম বেশি হওয়ার কারণে গরমের হাত থেকে ছুটকারা পেতে এয়ার কুলার কিনে নেন। এক কথায়, অল্প দামে পুষ্টিকর খাবার আর কি! এসি এবং এয়ার কুলার দুইই ঘরের তাপমাত্রা কমানোর কাজ করলেও পদ্ধতিগত দিক থেকে এই দুই যন্ত্রই আলাদা।
এয়ার কুলারে জল বা বরফ দেওয়া হয়ে থাকে। পরবর্তীতে সেটি বাষ্পীভূত হয়ে ঘরের তাপমাত্রা কমায় এবং ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করে। একই সাথে ঘরে আর্দ্রতার পরিমাণও বাড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে এয়ার কুলার। অন্যদিকে এসি আদ্রতা কমিয়ে ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেয় গোটা ঘরে। কিন্তু এই দুটির মধ্যে ক্ষতিকর কোনটি? কোনটিই বা বেশি ভাল? এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক সমীর ভাটি জানিয়েছেন, এসি এবং কুলার উভয়েরই নিজস্ব সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে।
ওই চিকিৎসকের কথায়, “এসির তাপমাত্রা 22 থেকে 25 ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে রাখা উচিত। পরবর্তীতে ঘরে তাপমাত্রা বজায় থাকলে এসি বন্ধ করে ফ্যান চালু করতে হবে। যদি কেউ দীর্ঘক্ষণ এসির সংস্পর্শে থাকেন তবে তার দেহে জলশূন্যতা তৈরি হয়। তাছাড়াও এসিতে থাকলে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রায়শই মানুষ ক্লান্ত বোধ করে থাকেন। এয়ার কুলারের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা হয় না। যদিও এর নিজস্ব সুবিধা-অসুবিধা আছে।
ওই চিকিৎসকের দাবি, নিয়মিত এসির জল পরিবর্তন না করলে যেমন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেয় তেমনই এয়ার কুলার সঠিক জায়গায় না রাখলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এটি প্রযুক্তিগতভাবে ঠিকঠাক জায়গায় না বসালে ঘরের আদ্রতা বাড়িয়ে দেয়। তবে কেউ যদি এয়ার কুলারকে উইন্ডো এসির মতো ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে ক্ষতি কম। কুলার ঘরে তাজা বাতাস সরবরাহ করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। এর ফলে গলা শুকিয়ে যাওয়া এবং চোখ জ্বালা করার ঝুঁকি কমে। এতে বিদ্যুৎ খরচও অনেকটাই কম। শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এয়ার কুলার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। একই সাথে এয়ার কুলারের জল পরিবর্তন না করলে অ্যালার্জির মতো সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
View this post on Instagram
অবশ্যই পড়ুন: চাকরি ছেড়ে বাড়ির ছাদে গাঁজা চাষ করছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তারপর যা হল
একইভাবে এসি প্রচন্ড গরমে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। বিশেষ করে বদ্ধ ঘরে এসি কার্যকর। যেসব জায়গায় উচ্চ আদ্রতা রয়েছে সেইসব অঞ্চলে এসি বেশ আরামদায়ক। তবে দীর্ঘক্ষণ এসি ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে বায়ুর গুণমান হ্রাস পায়। ব্যক্তির ত্বক এবং চোখে শুষ্কতা তৈরি হয়। এসি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাড়তে পারে মাথায় যন্ত্রণা এবং সাইনাসের মতো সমস্যা। চিকিৎসাকরা বলছেন, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা চোখের সমস্যা থাকলে এসি না ব্যবহার করাই ভাল। সেক্ষেত্রে আট থেকে আঁশির জন্য এয়ার কুলার বেশ ভাল বিকল্প।










