ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ দিন, এই পাঁচ পেশায় প্রচুর টাকা আয়ের সুযোগ

Published:

Offbeat Careers

অনন্যা সরকার, কলকাতা: তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এখন আর শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ওকালতি মতো পেশা বেছে নেয় না। আজকের দিনে ভিন্ন মানসিকতা পোষণকারীদের জন্যও ক্যারিয়ার গড়ার অনেক দরজা খুলে গেছে, যেগুলির সম্পর্কে কিছু বছর আগেও হয়তো কেউ খুব একটা জানতো না। আপনি কখনও শুনেছেন ঘুমোনোর জন্য বা রঙ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা যায়। (High-Paying Offbeat Careers) স্লিপ ডাক্তার বা কালার কনসালট্যান্টের মতো পেশা নিয়ে এখন শুধু চর্চাই চলছে তা নয়, এর থেকে পাওয়া অর্থ যেকোনো কর্পোরেট জবকেও পিছনে ফেলেছে। যদি আপনি দশটা পাঁচটার চাকরি করে ক্লান্তবোধ করেন এবং কম্পিটিশন নেই এমন ফিল্ড বেছে নিতে চান, তাহলে এরকমই একটি অফিবিট পেশাকে বেছে নিতে পারেন। চলুন এই প্রবন্ধে এরকমই অদ্ভুত পাঁচটি পেশার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. ঘুমের ডাক্তার (Sleep Consultant) 

বর্তমান সময়ে মানুষের কাজের ব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে ঘুমের মতো অতি স্বাভাবিক জিনিসও এখন লাক্সারি হয়ে উঠেছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও কাজের চাপ বহু মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তাই বর্তমানে স্লিপ কনসালটেন্টের চাহিদা বাড়ছে। এই সমস্ত বিশেষজ্ঞরা মানুষের ঘুম না আসার সমস্যাটি বিশ্লেষণ করে তাদের লাইফ-স্টাইলে ইতিবাচক পরিবর্তন ও ভালো ঘুম হওয়ার পথ বাতলে দেন। স্লিপ কনসালটেন্টদের জনপ্রিয়তা কর্পোরেট জগতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একজন অভিজ্ঞ স্লিপ কনসালটেন্ট বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা আরামসে উপার্জন করতে পারেন।

২. রঙ বিশেষজ্ঞ (Colour Consultant)

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে কোনো জিনিসের রঙ মানুষের মুড ও ব্যক্তিত্বের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। কালার কনসালটেন্টরা এই বিষয়টির ওপরই কাজ করেন। তারা ব্র্যান্ড, আর্কিটেক্ট ও সেলিব্রিটিদের দেওয়াল বা পোশাকের জন্য সঠিক রঙ বেছে দিতে সাহায্য করেন। তাই এখন মার্কেটিং ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনিংয়ের পরিসরে কালার কনসালটেন্টদের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। একজন রঙ বিশেষজ্ঞ বছরে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। 

৩. ফুড স্টাইলিস্ট (Food Stylist) 

সোশ্যাল মিডিয়া বা বিজ্ঞাপনী ছবিতে আমরা যে খাবারগুলো দেখি সেগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে ক্যামেরার সামনে পেশ করেন ফুড স্টাইলিস্টরা। বড় হোটেল, কুকিং শো বা ম্যাগাজিনে সুন্দরভাবে খাবারকে সাজানোর জন্য একজন ফুড স্টাইলিস্টের প্রয়োজন পড়ে। দক্ষ ফুড স্টাইলিস্টদের জন্য বছরে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি উপার্জন করা কোনো বড় বিষয় নয়। 

৪. ফ্রেগ্রেন্স কেমিস্ট (Fragrance Chemist) 

 ভালো সুগন্ধ চিনে নেওয়ার শক্তি থাকলেও আপনি একজন সফল ফ্রেগ্রেন্স কেমিস্ট বা পারফিউমার হয়ে উঠতে পারেন। এই পেশার ব্যক্তিরা পারফিউম, সাবান এমনকি খাবারের সুগন্ধও তৈরি করেন। কসমেটিকসের জগতে এই ফ্রেগ্রেন্স কেমিস্টদের কদর দ্রুত বাড়ছে। তাই এই পেশার ব্যক্তিরা বছরে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে সক্ষম। 

আরও পড়ুনঃ আবাসে ঘর থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, মহিলাদের জন্য নতুন ঘোষণা রাজ্য সরকারের

৫. এথিক্যাল হ্যাকার (Ethical Hacker)

শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও এই পেশার ব্যক্তিদের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে টেক জগতে। বিভিন্ন কোম্পানির ডেটা সাইবার হামলার হাত থেকে বাঁচাতে এথিক্যাল হ্যাকাররা নিজেই সিস্টেম হ্যাক করার চেষ্টা করে থাকেন। যত দিন যাচ্ছে ততই সাইবার ক্রাইম বাড়ছে তাই বিভিন্ন টেক জায়ান্টস এবং ব্যাংকের জন্য এথিক্যাল হ্যাকাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। এই পেশায় স্টার্টিং প্যাকেজই ১৫ – ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থাকে। 

আরওIncomeJob