অনন্যা সরকার, কলকাতা: বড় শহরে নামজাদা কোম্পানির উচ্চ বেতনের চাকরিই জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি – এমনটা অনেকেই বিশ্বাস করেন। তবে, আইআইটি কানপুরের (IIT Kanpur) প্রাক্তন ছাত্র আর্যভ মোদির (Arjav Modi) জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এর থেকে অনেকটাই আলাদা। তিনি তাঁর ফুল টাইম চাকরি ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে এক ছোট্ট অখ্যাত পাহাড়ি শহরে সংসার পেতেছেন (Mountain Life)। তাঁর কাছে এটাই সাফল্য। সম্প্রতি এক লিঙ্কডইন (Linkedin) পোস্টে আর্যভ ভারতের স্টার্টআপ রাজধানী বেঙ্গালুরুর জীবনযাত্রার সঙ্গে একটি ছোট পাহাড়ি শহরে কাটানো তাঁর গত চার মাসের অভিজ্ঞতার তুলনা করেছেন। তাঁর এই পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। লাইক, কমেন্টসে ভরিয়ে দিয়েছেন নেট নাগরিকরা। অনেকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করেন মন্তব্য বিভাগে।
শহরের কোলাহলময় পরিবেশ ছেড়ে পাহাড়ী শহরে খুঁজে পেয়েছেন শান্তির ঠিকানা
নিজের লিঙ্কডইন পোস্টে আর্যভ ২৭ বছর বয়সী দুই কর্মজীবী ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন এদের মধ্যে একজন বেঙ্গালুরুতে থাকেন, বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করেন, প্রতিদিন উবারে (Uber) যাতায়াত করেন এবং জেপ্টো (Zepto) থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কেনাকাটা করেন। এরকম জীবনযাত্রাকে অনেকেই আদর্শ বলে মনে করেন।
তাঁর কথায়, এরকম পরিবেশে সবসময়ই অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হয়। চারপাশে কম বয়সী যুবক-যুবতীকে দেখলে কখনো কখনো মনে হতে পারে জীবনের সেরা সময়টা হয়তো পার হয়ে গেছে। ২১ বছর বয়সী কারুর থেকে নিজে অনেকটা পিছিয়ে আছেন বলে মনে হতে পারে। এর ফলে মনে বিষন্নতা ভর করে, সৃষ্টি হয় একাকীত্বও।
আর্যভ তাঁর পোস্টের পরের অংশে এক শান্ত ছোট পাহাড়ি গ্রামের জীবনযাত্রার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সেখানে থাকা ২৭ বছর বয়সী তরুণটি বেঙ্গালুরুতে থাকা কোনো বন্ধুর তুলনায় অর্ধেকেরও কম আয় করেন, পায়ে হেঁটে বা স্কুটিতে যাতায়াত করেন এবং সঙ্গীর সাথে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে করতে সবজি কেনেন। তাঁর মতে, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ মানুষের চিন্তা ভাবনাতেও অনেক প্রভাব ফেলে। তাঁর আশেপাশের মানুষগুলোর বয়স মূলত ৩০-এর বেশি, তাঁরা জীবনে এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। তাঁরা অন্যদের আপন করে নেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করান। এদের দেখে তাঁর উপলব্ধি হয় জীবনের সেরা সময়টা এখনও সামনেই পড়ে আছে।
আরও পড়ুনঃ হালিশহরে উদ্ধার বিরল গাঙ্গেয় ডলফিন, স্থানীয়দের মধ্যে ছড়াল উদ্বেগ
আর্যভ জানান, ছোট পাহাড়ি শহর বিরকেই (Bir) এখন তিনি নিজের ঘরবাড়ি বলে মনে করেন। সেখানে চার মাস কাটিয়ে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তারই ভিত্তিতে তিনি এই পর্যবেক্ষণটি তুলে ধরেছেন। আর্যভ একসময় বেঙ্গালুরু এবং সুরাটে চাকরি করেছেন। এখন কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে স্ত্রী সিমরান চৌধুরীর সাথে এই পাহাড়ি শহরে ঘর বেঁধেছেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, শহরে থাকাকালীন স্বামী-স্ত্রী মিলে যা উপার্জন করতেন, এখন তার অর্ধেকেরও কম টাকা আয় করেন। তবে তাঁরা তাতেই খুশি আছেন। আর্যভের মতে, একজন মানুষ কোথায় থাকছেন তার ওপরই নির্ভর করে তিনি কী ভাবছেন বা কেমনভাবে জীবনযাপন করছেন। যদিও পোস্টের কমেন্ট সেকশনে আর্যভ জানান, এটি সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি কাউকেই শহর ছেড়ে পাহাড়ে গিয়ে থাকার কথা বলছেন না।










