খরচ নামমাত্র, গ্যাসের সংকটে LPG-র বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানালেন নীতিন গড়করি

Published:

Ethanol Stove

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি যখন মধ্যবিত্তদের পকেটে টান ফেলছে, ঠিক তখনই সস্তার বিকল্পের কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি (Nitin Gadkari)। গাড়ির জালানিতে ইথানলের সফল ব্যবহারের পর এবার রান্নাঘরেও ইথানল উনুন (Ethanol Stove) আনার ঘোষণা করেছেন তিনি। নাগপুরের এক অনুষ্ঠানে দেশীয় প্রযুক্তির উন্মোচন করে মন্ত্রী দাবি করেছেন, এই উনুনে রান্না করার খরচ সাধারণ বাণিজ্যিক বা ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের থেকে অনেকটাই কম।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ইথানল উনুন?

নীতিন গড়করি এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অভিনব উনুনের কার্যপদ্ধতি অনেক সহজ আর বিজ্ঞানসম্মত। এই স্টোভে রান্নার তীব্র এবং নীল শিখা তৈরি করতে সরাসরি ইথানলের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে সাধারণ জল মেশানো হয়। আর এই পুরো প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণ ভারতের মাটি এবং পরিকাঠামাকে মাথায় রেখেই দেশের বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন। এমনকি কেরোসিন বা কাঠ কয়লার মতো এটি কোনও ক্ষতিকর ধোঁয়া উৎপন্ন করে না। ফলে পরিবেশ দূষণের কোনও সম্ভাবনা নেই।

তবে খনিজ তেলের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে ইথানল চমৎকার ম্যাজিক দেখাতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইথানল তৈরি হয় আখের ছিবড়ে, ভুট্টা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া কৃষিজাত বর্জ্য থেকে। যার ফলে এলপিজির তুলনায় এর দাম অনেকটাই কম। পাশাপাশি কেরোসিন বা কাঠ-কয়লার তুলনায় ইথানল দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড বা অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না। এছাড়া বিদেশি তেলের উপর নির্ভরতা কমানো যায়। কারণ, ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজি বা পেট্রোলিয়ামের প্রায় ৮৭ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। যার জন্য বার্ষিক লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়।

এছাড়া মন্ত্রী আরও বলেছেন যে, এই ধরনের উৎপাদন বাড়লে সরাসরি দেশের আখ এবং ভুট্টা চাষি ভাইরা অনেকটাই লাভবান হবে। কারণ, কাঁচামাল বিক্রি করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোয়ার আসবে। এছাড়া তরল ইথানল গ্যাস সিলিন্ডারের মতো অতিরিক্ত চাপে রাখা হয় না। যার ফলে এই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো কোনও রকম ঝুঁকিও থাকবে না।

আরও পড়ুন: তৎকাল টিকিট পেতে এবার লাগবে টোকেন, নয়া নিয়ম রেলের

ইথানল কি পারবে ভারতের সব ঘরের এলপিজিকে সরাতে?

আসলে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং লাভজনক হলেও সারাদেশে এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ভারতের প্রতিটি কোনায় কোনায় বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের শক্তিশালী ডেলিভারি নেটওয়ার্ক রয়েছে। আর ইথানলকে সফল করতে হলে গোটা দেশের তরল ইথানলের নির্ভরযোগ্য রিফিলিং এবং সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের কোটি কোটি পরিবার বহু বছর ধরেই গ্যাসে রান্না করতে অভ্যস্ত। তাদের কাছে এই নতুন প্রযুক্তি সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জের বিষয় হতে পারে। তৃতীয়ত, গাড়ির পেট্রোলে মেশানোর জন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক পরিমাণ ইথানলের চাহিদা ।রান্নাঘরের চাহিদা মেটাতে তাহলে উৎপাদন আরও বহুগুণ বাড়াতে হবে।