অবশেষে সুদের হার বাড়াচ্ছে RBI? জানিয়ে দিলেন সঞ্জয় মালহোত্রা

Published:

Reserve Bank of India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: “সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনও আসেনি।” বিনিয়োগকারীদের আশায় জল ঢেলে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা (Sanjay Malhotra)। এমনিতেই গত ৫ জুন আরবিআই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে তার পরপরই অর্থাৎ ২৪ জুন গভর্নর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতি ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ রয়েছে। এখনই সুদের হার বাড়ানোর উপযুক্ত সময় নয়।

এখনই বাড়ছে না সুদের হার

প্রসঙ্গত, এবারের মুদ্রানীতির বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফ থেকে। তবে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বর্তমান পরিস্থিতিকে নিরপেক্ষ হিসেবেই বর্ণনা করছেন। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই রেপো রেট বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর বক্তব্যে। এমনিতেই মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯% থেকে কমিয়ে ৬.৬% নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৬% থেকে বাড়িয়ে আবার ৫.৬% করা হয়েছে। আর এই ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির পিছনে বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকেই দায়ী করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার কথায়, “যদি এতই নিশ্চিত থাকত যে আমরা আগামী মাসগুলোতে সুদের হার বাড়াচ্ছি, তাহলে হয়তো আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কঠোর অবস্থানে চলে যেতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। কারণ অনিশ্চয়তা অনেকটাই বেশি।” এমনকি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নর উল্লেখ করেন, “এই যুদ্ধবিরতি নিজেই ভঙ্গুর। সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। আরবিআই তথ্যের উপরেই নির্ভরশীল। ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি অবশ্যই কমেছে। কিন্তু অপরিশোধিত তেলের দাম শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা দেখার জন্যই আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: এবার বিদেশেও হবে ব্যবসা, জিআই স্বীকৃতি পেল হুগলির জলভরা সন্দেশ ও বলাগড়ের নৌকা

তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই আর্থিক বাজারে দেখা গিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভারতের ১০ বছর মেয়াদী বেঞ্চমার্ক সরকারি বন্ডের ইল্ড ২ বেসিস পয়েন্ট কমে ৬.৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার বড় আকারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা সেরকম দেখছেন না। যদিও সবটাই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তের উপরেই। গভর্নরের কথা থেকে যা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়ে গেল, তা থেকে স্পষ্ট যে, যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে তাহলে হয়তো সুদের হার নিয়ে আবারও পর্যালোচনা করা হবে। এবং সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলে ঋণগ্রহীতারা যে উপকৃত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।