যে কলেজের সাফাইকর্মী মা, সেখান থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে নজির গড়লেন মেয়ে

Published:

Success Story of BIT Mesra PHD Holder Arati Mahato

অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: সম্প্রতি বিআইটি মেশরা (BIT Mesra) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জনকারী রাঁচির তুরূপ গ্রামের বাসিন্দা আরতি মাহাতোর নাম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে (Success Story of Arati Mahato)। তাঁর গ্রামের মধ্যে তিনিই প্রথম মহিলা যিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আরতির এই সাফল্যের পিছনে তাঁর মায়ের অবদান অনেকখানি। মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে আরতি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন। আসুন তাঁর এই অসামান্য সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক। 

আরতির মা বিআইটি মেশরায় সাফাইকর্মীর কাজ করে সংসার চালান

আরতি মাহাতোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর মা রানু দেবীর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। গত ২৬ বছর ধরে রানু দেবী বিআইটি মেশরায় সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একা হাতেই তাঁর তিন সন্তানকে বড় করেছেন। রানু দেবী জানান যে, যখন তিনি কাজ শুরু করেছিলেন তখন তাঁর সাপ্তাহিক আয় ছিল মাত্র ৪০০ টাকা, বর্তমানে তা মাসে প্রায় ১৫,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তিন ভাইবোনের মধ্যে আরতি হলেন মেজো সন্তান। সংসারে তীব্র অভাব অনটন সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তাঁর উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিআইটি মেশরা এবং বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গবেষণা করে পিএইচডি অর্জনের আগে আরতি বিআইটি মেশরা থেকেই বি.টেক (B.Tech) এবং এম.টেক (M.Tech) সম্পন্ন করেছিলেন। পিএইচডি-তে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইমেজ প্রসেসিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ এবং গবেষণাপত্রের শিরোনাম ছিল ‘এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড রিলায়েবল ইমেজ কমিউনিকেশন থ্রু ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক’।

আরও পড়ুন: পরপর পাঁচ বার ব্যর্থতা, ষষ্ঠ প্রচেষ্টায় UPSC পরীক্ষায় ১১ র‍্যাঙ্ক করে IAS হলেন নূপুর

রানু দেবী তাঁর মেয়ের এই সফলতাকে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের ফসল হিসেবে দেখেন। আরতির এই সাফল্য কেবল তাঁর পরিবারের কাছেই গর্বের বিষয় নয়, তিনি এখন কঠিন পরিস্থিতিতেও উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া অসংখ্য তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

google button