অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: কথায় বলে, যারা চেষ্টা করে যান, তাদের কখনও হার হয় না। ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ষষ্ঠ ও শেষ প্রচেষ্টায় ‘অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক’ (AIR) ১১ অর্জন করে আইএএস (IAS) অফিসার হওয়া নুপুর গোয়েলের সাফল্যের কাহিনী এরই এক জীবন্ত উদাহরণ (UPSC Success Story of IAS Nupur Goel)। দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত ইউপিএসসি পরীক্ষায় টানা পাঁচবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি নূপুর, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে সঙ্গী করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বারবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও হার না মানার জেদ এনে দিল সাফল্য
দিল্লির নারেলা এলাকার বাসিন্দা নুপুর গোয়েল ডিএভি (DAV) কলেজ থেকে তাঁর ইন্টারমিডিয়েট বা উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস-এ বি.টেক সম্পন্ন করেন। তারপর নূপুর ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটিতে (IGNOU) ভর্তি হন এবং সেখান থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর মামাও একসময় ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাই নুপুরকে দেশের সেবায় নিবেদিত প্রশাসনিক চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়তে অনুপ্রাণিত করে।
২০১৪ সালে নুপুর তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি প্রিলিমস ও মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, কিন্তু ইন্টারভিউ রাউন্ডে বাদ পড়ে যান। ২০১৫ সালে তিনি প্রিলিমস ধাপেই ব্যর্থ হয়েছিলেন, পৌঁছাতে পারেননি মেইনসে। যদিও ২০১৬ সালে তিনি আবারও ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছান, তবে চূড়ান্ত মেধা তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। ২০১৭ সালে প্রিলিমসে বাদ যান এবং ২০১৮ সালে আবারও ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কিন্তু পরপর পাঁচটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরেও তাঁর দৃঢ় সংকল্প অটুট ছিল।
আরও পড়ুন: বিদেশে সুসজ্জিত বাসভবন, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, ধ্রুব রাঠির নেট ওয়ার্থ কত জানেন?
এই একটানা ব্যর্থতার মাঝে নুপুর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে ‘ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো’ (IB)-তে যোগদান করেন। ফুলটাইম চাকরি সামলেও, তিনি সময় বের করে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতেন। অবশেষে, ২০১৯ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ষষ্ঠ ও শেষ প্রচেষ্টায় নূপুর গোয়েল অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১১ (AIR 11) অর্জন করে আইএএস অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন।
বর্তমানে নুপুর গোয়েল উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলায় ‘চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ (CDO) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যর্থতা মানুষকে দুর্বল করে না, বরং এটি দুর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করে তা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। তিনি ইউপিএসসি সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের সীমিত উৎস থেকে পড়াশোনা ও নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রিলিমসের জন্য মক টেস্ট এবং মেইনসের জন্য উত্তর লেখার অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তোলার কথাও বলেন নূপুর। বারবার ব্যর্থতা সত্ত্বেও তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ বহু ছাত্রছাত্রীদের কাছে আজ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।










