চাকরি ছেড়ে ১৯ হাজার টাকায় শুরু করেন চাষ, এখন লাখ লাখ টাকা আয় ITI পাস যুবকের

Published:

Pawan Barala

অনন্যা সরকার, কলকাতাঃ সেই প্রাচীন যুগ থেকেই চাষাবাদের (Agriculture) কাজ করে জীবনধারণ করে আসছেন বহু মানুষ। অনেকে বলবেন চাষ করা আর নতুন কি! এতে আর এমন কি উদ্ভাবনের আছে? কিন্তু এই চাষাবাদকেই এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন রাজস্থানের সিকার জেলার নিমকথানার বাসিন্দা পবন বারালা (Pawan Barala)। আইটিআই পাশ পবন মাত্র ১৯ হাজার টাকা লগ্নি করে মাশরুম চাষ করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আজ স্বাধীনভাবে উপার্জন করতে আগ্রহী মানুষদের কাছে এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়েছে উঠে। তবে পবন বারালার ওই সফলতার কাহিনী কোনো গল্পকথা নয় বরং কঠোর পরিশ্রম ও কৌশলের দৃষ্টান্ত। 

মাত্র ১৯ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে লক্ষাধিক আয়

আইটিআই (ITI) ও পলিটেকনিক পাশ করার পর পবন বারালা প্রায় আট মাস একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন কিন্তু কম বেতন ও শহরে থাকার ব্যাপক খরচ সামলে তিনি কোনো সঞ্চয়ই করে উঠতে পারছিলেন না। তাই তিনি চাকরি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে তিনি অশ্বগন্ধার চাষ করে প্রায় কুড়ি হাজার টাকার লোকসানের মুখে পড়েন। কিন্তু হার না মেনে পবন তার চেষ্টা জারি রাখে এবং কৃষিকাজ সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে তিনি কৃষি বিভাগের ট্রেনিং সেন্টারের শরণাপন্ন হন। 

আত্মা (ATMA) প্রকল্প দ্বারা আয়োজিত একটি উন্নত কৃষি ফার্ম পরিদর্শন করে পবনের মাথায় মাশরুম চাষের বুদ্ধি আসে। তারপর তিনি সিকারে এক সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ জানুয়ারি থেকে ফ্লোরিডা ওয়েস্টার মাশরুম চাষের কাজ শুরু করেন। উনি ২৫×১২ ফুটের একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন, যেখানে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হয়। পবন জানিয়েছেন যেজি রাজস্থানের মতো অঞ্চলে ২৪ ঘন্টা এই ধরনের তাপমাত্রা বজায় রাখা খুবই কঠিন কাজ। তার জন্য পবনকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা ও প্রায় চার থেকে ছয় ঘন্টা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। 

কম খরচে বেশি লাভ

পবন হিমাচল প্রদেশের সোলান থেকে মাত্র ৫,২০০ টাকায় ১৫ কিলো বিজ কিনে ১১৪ টি প্যাকেট তৈরি করেন। প্রত্যেকটি প্যাকেট এখন থেকে প্রায় ৩ কিলো পর্যন্ত মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হলো পবন বারালা মাশরুমগুলিকে শুকিয়ে অনলাইন মার্কেটে প্রায় ১২৮০ টাকা প্রতি কিলো দরে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রোটিনে ভরপুর ও পুষ্টিদায়ক মাশরুমে চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের লুকনো রত্ন, বর্ষায় ঘুরে আসুন দার্জিলিং-র নতুন অফবিট ‘জৌবাড়ি’ থেকে

রাজস্থান সরকারও তরুণ প্রজন্মকে মাশরুম চাষের প্রতি উৎসাহী করে তোলার জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদান প্রদান করছে। পবনের এখন লক্ষ্য তার সহযোগীদের সাথে মিলে ১১৪ প্যাকেট থেকে ৬,৫০০ প্যাকেট পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করা। আজ পবন বারালার সাফল্যের কাহিনী অনেক কৃষিজীবীদের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়েছে উঠেছে।