পড়াশোনা ছেড়ে শুরু করেন চাষ, অরগ্যানিক ফার্মিং করে এখন ২৫ লক্ষ আয় কৃষকের

Published:

Success Story of Organic Farmer M. channakeshava

অনন্যা সরকার, কর্ণাটক: কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যে বড় সাফল্য লাভ করা যায়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কর্নাটকের এম. চান্নাকেশব (Success Story of Organic Farmer M. channakeshava)। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগে কৃষিকাজ একটি লাভজনক পেশা হয়ে উঠতে পারে। কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলার মাসনাপুরা গ্রামের চান্নাকেশব ২০০৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পর তাঁর বাবার ৮ একর নারকেল ও সুপারি বাগানে কাজ শুরু করেন। তবে তিনি নিজেকে শুধু প্রথাগত চাষাবাদ পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। আসুন তাঁর সাফল্যের কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

অরগ্যানিক ফার্মিংয়ে সাফল্য এম. চান্নাকেশবের 

এম. চান্নাকেশব চাষাবাদ শুরু করার পর ২০০৪-০৫ সাল নাগাদ কৃষি বিভাগের অধীনে দুই বছরের প্রশিক্ষণ নেন। সেখানে তিনি ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচোযুক্ত সার) তৈরি, মালচিং (মাটি ঢেকে রাখা) করা, ‘জীবামৃত’ (এক ধরনের তরল জৈব সার) এবং গ্রাফটিং (উদ্ভিদের কলম পদ্ধতি) সম্পর্কে শেখেন। এছাড়া বিভিন্ন অরগ্যানিক ফার্ম ভালোভাবে পরিদর্শন করে ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি তাঁর চাষাবাদ পদ্ধতিকে আরও উন্নত করে তোলেন। ২০১০ সালের মধ্যে তিনি পুরো ফার্মের দায়িত্বই নিজের কাঁধে তুলে নেন।

তিনি দেখেন তাঁর বাগানে ৩৫০টি নারকেল গাছ ও ১,০০০টি সুপারি গাছের মাঝে বেশ কিছু অব্যবহৃত জায়গা পড়ে রয়েছে। ২০১১ সালে তিনি সেখানে এলাচ, গোলমরিচ ও কফির চাষ শুরু করেন, এর পাশাপাশি আম, কাঁঠাল ও আতা গাছও লাগান। এরপর ২০১৫ সাল নাগাদ কিছু ফলের উচ্চ চাহিদা ও ভালো দাম দেখে তিনি রামবুটান (Rambutan), লংগান (Longan), ম্যাঙ্গোস্টিন (Mangosteen), প্যাশন ফ্রুট (Passion Fruit) এবং ওয়াটার অ্যাপলের (Water Apple) মতো বিদেশি প্রজাতির উষ্ণমণ্ডলীয় ফল চাষ শুরু করেন। তিনি কেরালা ও ম্যাঙ্গালুরুর নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করেন। এরপর কলম পদ্ধতিতে চাষের পরিধি বাড়ান। 

আরও পড়ুন: ত্বকের জেল্লা বাড়াবে এই ৫ যোগাসন, কীভাবে করবেন জেনে নিন

অরগ্যানিক ফার্মিংয়ের প্রয়োজনে তিনি স্থানীয় ‘হাল্লিকার’ জাতের গরুর গোবর ও মূত্র ব্যবহার করে পঞ্চগব্য, সবুজ সার এবং জীবামৃতও তৈরি করেন। নিয়মিত জীবামৃত প্রয়োগ ও ঝরা পাতা দিয়ে মালচিং করার ফলে মাটিতে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা সেচকার্যের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। এম. চান্নাকেশব একটি বড় আকারের ভার্মিকম্পোস্ট বেড তৈরি করেন, যেখান থেকে প্রতি তিন মাসে প্রায় এক টন জৈব সার পাওয়া যায়। এছাড়াও তিনি ফার্মে মৌমাছি পালনও শুরু করেছেন। বর্তমানে তাঁর ৮ একর খামারে প্রায় ৩,০০০টি গাছ রয়েছে, এর মধ্যে নারকেল, সুপারির পাশাপাশি, ১, ০০০টি বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ এবং মসলার গাছ রয়েছে।

কর্নাটকের অরগ্যানিক চাষী এম. চান্নাকেশব কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তাঁর উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেন। প্রতি সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রেতা তাঁর ফার্মে আসেন, যার ফলে তাঁর বার্ষিক আয় এখন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি, তিনি একটি ছোট ইলেকট্রনিক্সের দোকানও চালান। বর্তমানে তাঁর ফার্মটি মিশ্র ও জৈব চাষাবাদে আগ্রহী কৃষকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠেছে।

google button