সরকারি চাকরি ছেড়ে বিনা কোচিংয়ে UPSC-র প্রস্তুতি, দেড় বছরের প্রচেষ্টাতেই আজ IAS যতীন

Published:

UPSC Success Story of IAS Jatin Kumar

অনন্যা সরকার, রাজস্থান: দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসে (UPSC CSE) উত্তীর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী। বছরের পর বছর ধরে চলে প্রস্তুতি। কিন্তু প্রতি বছর হাতে গোনা কয়েকজনই ইউপিএসসি-এর ধাপগুলি সফলভাবে পার করতে সক্ষম হন। এর জন্যে দরকার হয় নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা। রাজস্থানের আলওয়ার জেলার একটি ছোট গ্রামের বাসিন্দা যতীন কুমারও সীমিত সম্পদ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও কীভাবে নিজের স্বপ্নপূরণ করা যায়, তার এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন (UPSC Success Story of IAS Jatin Kumar)। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে, কোনো প্রথাগত কোচিং ছাড়াই শুধুমাত্র ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে মাত্র দেড় বছরের প্রস্তুতিতেই তিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আসুন তার এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।

সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে ইউপিএসসি-এর প্রস্তুতি 

সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা যতীন কুমার গ্রামেরই একটি সরকারি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। নামি-দামি ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলে পড়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। তিনি আলওয়ার থেকে জীববিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণি সম্পন্ন করেন এবং তারপর রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজ জীবনে যতীন ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রায়শই সহপাঠীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতেন। একটি সাক্ষাৎকারে যতীন জানান যে, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের জন্য তিনি মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন।

যতীনের পরিবারের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছান। কলেজ শেষ করার পর, ২০১৭ সালে তিনি ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ায় চাকরির সুযোগ পান। চাকরির পাশাপাশি তিনি ডিসটেন্স স্টাডি হিসেবে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। তবে তাঁর মনে বরাবরই সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। তাই এফসিআই-তে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দেন। 

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ছাত্রী গড়লেন নজির, ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের প্রাক্তনী সুযোগ পেলেন ISRO-এ

২০২১ সালে তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন, কিন্তু প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অল্পের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরপর তাঁর পরিবার, বিশেষ করে তাঁর দাদা তাঁকে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এই সিদ্ধান্তটি কঠিন হলেও, যতীনের পরিবারের তাঁর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিল ও তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছিল।

প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর, তাঁর বাবা তাঁকে কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু যতীন স্ব-অধ্যয়নের পথই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে আলোচনা দেখতেন ও সেখান থেকে নিজেই নিজের নোট তৈরি করতেন। তাঁর প্রস্তুতির কৌশলের মূলে ছিল দীর্ঘ নোটের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করা, সীমিত সম্পদের ব্যবহার ও নিয়মিত সেগুলি রিভিশন করা।

এছাড়া, তিনি নিয়মিত উত্তর লেখার অভ্যাস করতেন ও গত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র সমাধানও করতেন। নিরলস কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সমর্থনে যতীন ২০২৩ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে ৩৬৪তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন, যার ফলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই তাঁর ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে (IAS) যোগদানের পথ প্রশস্ত হয়। 

যতীন কুমার মনে করেন, ইউপিএসসি কোনো প্রার্থী কতগুলো বই পড়েছেন তা দেখার বদলে তাঁর বোঝার ক্ষমতা ও উপলব্ধির গভীরতা কতটুকু, সেটাই যাচাই করে। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সঠিক ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রস্তুতির কৌশল, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। তাই, আজ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া দেশের বহু তরুণ-তরুণীর কাছে তাঁর এই যাত্রা, এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন