টানা চারবার UPSC ক্র্যাক, IAS হওয়ার সুযোগ পেয়েও প্রত্যাখ্যান করেন শ্রেয়া, তারপর হন …

Published:

UPSC Success Story of IFS Shreya Tyagi

অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: কথায় বলে লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত লেগে থাকতে হয়, স্বপ্ন পূরণ একদিন ঠিকই হবে। এমনটাই প্রমাণ করে দেখালেন উত্তর প্রদেশের শ্রেয়া ত্যাগী। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) দ্বারা পরিচালিত সিভিল সার্ভিস (CSE) পরীক্ষাটি শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় পরপর ৪ বার উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়েছেন আইএফএস (IFS) শ্রেয়া ত্যাগী। কীভাবে করলেন এই অসাধ্য সাধন, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

টানা ৪ বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শ্রেয়া

উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের বাসিন্দা শ্রেয়া ত্যাগী বরাবরই পড়াশোনায় খুবই মেধাবী ছিলেন। তিনি হাই স্কুলে ৯০ শতাংশ এবং ইন্টারমিডিয়েটে গ্রেড ‘এ’ নিয়ে পাস করেন। এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাবা সুধীর কুমার ত্যাগী ছিলেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা।

স্নাতকোত্তর শেষ করার পর, শ্রেয়া সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যবসায়ের সাথে পড়াশোনা করতেন। ২০২১ সালে শ্রেয়া প্রথম প্রচেষ্টায় সংরক্ষিত তালিকায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেন, যার ফলে তিনি কমার্স সার্ভিসের জন্য নির্বাচিত হন। তবে এই পদ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি, তাই আবার চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে, তিনি সর্বভারতীয়  স্তরে ৩১৯তম র‍্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করেন ও ইন্ডিয়ান ডিফেন্স অ্যাকাউন্টস সার্ভিসের জন্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন: বিড়ি বেঁধে পড়িয়েছেন মা, চরম প্রতিকূলতার মধ্যে UPSC পাস করে ছেলে আজ IAS

আবার, ২০২৩ সালে শ্রেয়া তৃতীয়বারের জন্য ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন এবং নিজের র‍্যাঙ্ক উন্নত করে ১২৩তম স্থানে পৌঁছে তিনি ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং-এ সুযোগ পান। এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে, তিনি আরও একবার পরীক্ষা দেন এবং চতুর্থ প্রচেষ্টায় সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ৩১ অর্জন করে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS)-এ নিজের স্থান নিশ্চিত করেন। তবে চতুর্থ প্রচেষ্টায় মর্যাদাপূর্ণ ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে (IAS) চাকরির প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও, শ্রেয়ার তাঁর স্বপ্নের পথই অনুসরণ করেন এবং ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস বেছে নেন। 

এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানান, তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। তবে, তিনি বিশ্রামের জন্যও সময় রাখতেন, যা তাঁর মনোযোগ এবং সার্বিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্যে করে। তিনি আইএএস-এর পরিবর্তে আইএফএস পরিষেবা কেন বেছে নিলেন, তার উত্তরে শ্রেয়া জানান যে, যদিও তাঁর জন্ম দিল্লিতে, কিন্তু বাবার চাকরি সূত্রে তাঁর শৈশব বিশ্বের বিভিন্ন শহরে কেটেছে। বাহরাইনে স্কুলজীবন কাটানোর সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে রয়েছে তাঁর গভীর আগ্রহ। তাই তিনি আইএএস নয়, বরং আইএফএস অফিসার হওয়ার জন্যই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বসেন। এটিকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।