৮ বছর বয়সে হারান দৃষ্টিশক্তি, হয় ১৮ টি অস্ত্রোপচার, UPSC ক্র্যাক করে আজ সবার অনুপ্রেরণা

Published:

UPSC Success Story of Irfan Ahmad Lone

অনন্যা সরকার, কলকাতা: অসাধ্যকে সাধন করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের ইরফান আহমেদ লোন (UPSC Success Story of Irfan Ahmad Lone)। এদেশের লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে ইউপিএসসি (UPSC) পাস করে আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার জন্য বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তারা। প্রতিবছর যখন ফল প্রকাশ হয় সিভিল সার্ভিসের, তখন সফলতার এমন বহু কাহিনী সামনে আসে যা আমদের অবাক করে দেয়। এমনই এক কাহিনী হল জম্মু ও কাশ্মীরের ইরফান আহমেদ লোনের। দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও মনোবলে এতোটুকু আঘাত আসেনি তাঁর। ইউপিএসসি পাস করে আজ তিনি সফল সরকারী আধিকারিক। 

দুর্ঘটনায় চোখ হারিয়েও জিতেছেন জীবনযুদ্ধে 

ইরফান আহমেদ লোন উত্তর কাশ্মীরের নাইদখাই অঞ্চলের মঞ্জপোরার বাসিন্দা। স্কুলে পড়ার সময় ৮ বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় তার দুটি চোখেরই দৃষ্টিশক্তি চলে যায়। কিন্তু তিনি এই প্রতিবন্ধকতাকে কখনো তার স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। ইরফানের বাবা বশির আহমেদ সেচ বিভাগে একজন দিনমজুর হিসাবে কাজ করতেন। তিনি জানান যে, ইরফানের চোখে কোনো জন্মগত সমস্যা ছিল না। কিন্তু তার যখন চার বছর বয়স তখন এক প্রতিবেশী ভুলবশত তার চোখে একটি সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে দেয়। এই দুর্ঘটনায় চোখটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনও অন্যটি ঠিক ছিল। কিন্তু স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর, একদিন এক সহপাঠী ইরফানকে ধাক্কা দেয় আর একটি পেন্সিল সোজা তার ডান চোখে গিয়ে লাগে। তাকে তখন দ্রুত দিল্লির এইমস (AIIMS Delhi)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। ছেলের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে সেই আশায় ১৪ মাস সেখানে পড়েছিলেন। প্রায় ১৮টি অস্ত্রোপচার হয় ইরফানের চোখে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। 

দেরাদুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অফ পার্সনস উইথ ভিজ্যুয়াল ডিসএবিলিটিজ থেকে তাঁর স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করেন ইরফান লোন। এরপর তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) অধীনে হিন্দু কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU)। এখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

পড়াশোনায় মেধাবী ইরফান উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরি পরীক্ষা দিতে শুরু করেন। পাস করে যান পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB)-এর প্রবেশনারি অফিসার (PO)-এর পরীক্ষা। ২০২৫ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় তিনি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)-তে অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে তাঁর বরাবরের ইচ্ছা ছিল সিভিল সার্ভিস পাস করা, তাই চাকরির পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো টাকাই দুঃস্থের হাতে তুলে দিলেন রায়গঞ্জের মহিলা, প্রশংসা বাংলাজুড়ে

ইরফান আহমেদ লোন প্রথম প্রচেষ্টায় প্রিলিমস পরীক্ষায় পাস করলেও, মেইনসে গিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। হতাশ না হয়ে চালিয়ে যান প্রচেষ্টা। দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটে মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, কিন্তু এবার ইন্টারভিউ রাউন্ড থেকে বাদ পড়েন। অবশেষে, তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৩০ বছরের ইরফান সমস্ত বাধা অতিক্রম করে ৯৫৭ সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক নিয়ে মেধা তালিকায় স্থান করে নেন। তাঁর এই সাফল্য দেশের কোটি কোটি ছেলেমেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।