অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো টাকাই দুঃস্থের হাতে তুলে দিলেন রায়গঞ্জের মহিলা, প্রশংসা বাংলাজুড়ে

Published:

Donation of Annapurna Yojana Allowance

অনন্যা সরকার, রায়গঞ্জ: বর্তমানে রাজ্যেজুড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা পাওয়া নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কার অ্যাকাউন্টে ঢুকলো, কে রিজেক্ট হলেন – এসব নিয়ে দিনরাত চলছে চর্চা। টাকা না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজের হাজার অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানবিকতাকে সবার ওপরে রেখে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বাসিন্দা সুস্মিতা বিশ্বাস প্রমাণ করে দিলেন এখনও মনুষ্যত্ব মরেনি। সদ্য হাতে পেয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা। তবে টাকাটা নিজের কাজে না লাগিয়ে অবলীলায় তুলে দিয়েছেন দুঃস্থ প্রতিবেশী শঙ্কর চক্রবর্তীর হাতে। সুস্মিতা বলেন, শঙ্করবাবু তাঁর চেয়েও বেশি অসহায়, তাই এই কাজ।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তুলে দিলেন প্রতিবেশীর হাতে

রিপোর্ট অনুযায়ী, রায়গঞ্জ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হাইরোড কালীতলা এলাকায় বাড়ি সুস্মিতা বিশ্বাস এবং শঙ্কর চক্রবর্তীর। প্রায় আট বছর আগে এক দুর্ঘটনায় কারণে দুটো পা-ই প্রায় অকেজো হয়ে গেছে শঙ্করের। হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি, ঘরবন্দি হয়ে কাটে তার জীবন। সুস্মিতা বিশ্বাসের পরিবার পাশেই থাকেন। ২২ ও ১২ বছরের দুই মেয়ের মা তিনি। স্বামী অজয় বিশ্বাস গাড়ি চালিয়ে সংসার প্রতিপালন করেন। শঙ্করবাবু অবিবাহিত, তাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই। দিদি আলপনা পাল খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে যতটুকু পারেন সাহায্য করেন। তবে দিদি থাকেন দূরে, তাই কার্যত একা শঙ্কর। কিন্ত হঠাৎই তার কাছে ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন সুস্মিতা। শনিবার তার বাড়ি গিয়ে নিজের অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো টাকাটাই তুলে দিয়ে এসেছে শঙ্করের হাতে। 

সুস্মিতা বলেন, শঙ্করবাবুকে অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই দেখছেন তিনি। স্বামী সাধারণ গাড়িচালক। তারপর দুই মেয়ে রয়েছে, তাই চাইলেও তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি তিনি। এরসাথে তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে দুবার লক্ষ্মী ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেও ভাতা পাননি তিনি। নতুন সরকার আসার পর অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেন এবং এমাসেই পেয়েছেন প্রথম কিস্তির টাকা। টাকাটা পাওয়া মাত্রই তার মনে হল ওটা তিনি ‘শঙ্কর দার’ হাতে তুলে দেবেন। এতে ওঁর কিছুটা সুরাহা হবে, উনি তাঁর চেয়েও বেশি অসহায়। 

আরও পড়ুনঃ হাজার হাজার গাছ বাঁচিয়ে রেখেছেন ‘অক্সিজেন বাবা’, রোজ বের হন ৫০০ লিটার জল নিয়ে

সুস্মিতার এই কাজের প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসীরা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও দুঃস্থ মানুষের সাধ্যমতো সেবা করার চেষ্টা করবেন তিনি। এদিকে সাহায্য পেয়ে অত্যন্ত খুশি শঙ্কর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, হাঁটা চলা করতে পারেন না, তাই দীর্ঘদিন বাড়ির মধ্যে বন্দি হয়েই কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। এভাবে সাহায্য করতে আগে কেউ এগিয়ে আসেনি। 

google button