“মাদ্রাসা চলছিল চলবে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার উন্নয়নে ব্যর্থ” বিস্ফোরক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী

Published:

madrasa controversymadrasa controversy

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিস ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাদ্রাসাগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর এই পদক্ষেপ করেছে সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো, পড়ুয়ার সংখ্যা, শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতি, পরিচালন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কিনা, সেগুলি সবার প্রথমে যাচাই করা হয়েছে। সেই সমীক্ষার পরই একাধিক মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আরও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যেই নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে এবার এ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)।”

২৫২ মাদ্রাসা নিয়ে কী বললেন সিদ্দিকুল্লা?

সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, মুসলমান জাতি যাতে ঘাবড়ে যায়, দুর্বল হয়ে যায়, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তার জন্যই নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে মাদ্রাসাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টিকে ঘিরে তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত, কিন্তু শুধুমাত্র “মাদ্রাসা” হওয়ার কারণেই এই প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সত্যিই বেআইনি বা দেশবিরোধী কার্যকলাপের প্রমাণ থাকলে, নিজের জোর না খাটিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা তিনি জানতে চান। যদি না দেওয়া হয়ে থাকে, তার কারণও স্পষ্ট করতে হবে সরকারকে। তিনি প্রেস কনফারেন্স-এর মাধ্যমে ওয়েস্ট বেঙ্গল মাদ্রাসা প্রটেকশন কমিটির পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা করেন, যেখানে তিনি বলেন, “আজ থেকে এই কমিটিতে একটি হেল্প ডেক্স তৈরি হচ্ছে। এখানে দুজনকে জয়েন্ট কনভেনার করা হবে। বেলা বারোটা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত রেগুলার এই হেল্প টেক্সট খোলা থাকবে। ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের কোনও সমস্যা থাকলে তারা এই হেল্প ডেক্সে ফোন করে কথা বলতে পারেন।” তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “মাদ্রাসা চলছিল চলবে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার উন্নয়নে ব্যর্থ।”

রাজ্য সরকারের তরফে অবশ্য ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণ হিসেবে পরিকাঠামোর ঘাটতি, নির্ধারিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা নথিপত্রের সমস্যা-সহ একাধিক বিষয় সামনে আনা হয়েছে। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে অনুমোদন নিয়ে চলা মাদ্রাসার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। সেই তথ্য যাচাইয়ের পরেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটলেও লাগবে অতিরিক্ত চার্জ? জানুন নিয়ম

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন, তাঁরা কেউ সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন। সবার মাথার উপর রয়েছে সংবিধান। তাই যা যা করণীয় সবকিছু সংবিধান মেনেই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর লড়াই তাদের বিরুদ্ধে যারা সংবিধানকে পদদলিত করছে। তাঁর মতে, ইসলামিক সংস্কৃতির জন্য, শিক্ষার জন্য প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মাদ্রাসা থাকা দরকার।