অনন্যা সরকার, নদিয়া: দীর্ঘ কয়েক মাসের বিরতির পর অবশেষে কৃষ্ণনগর পৌরসভায় (আবার শুরু হল হাতে লেখা জন্মের শংসাপত্রকে (Birth Certificate) ডিজিটাল সার্টিফিকেটে রূপান্তরের প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার সকাল থেকে কৃষ্ণনগর শহর ও তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা এই পরিষেবা গ্রহণের জন্য পুরসভায় ভিড় জমাতে শুরু করেন। এতদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছিল ওই এলাকার মানুষজনদের। পুরসভা পুনরায় এই প্রক্রিয়া চালু করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বহু কৃষ্ণনগরবাসী।
কৃষ্ণনগর পৌরসভা আবার চালু করল ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ
মঙ্গলবারই প্রচণ্ড গরম ও রোদকে উপেক্ষা করে পুরসভা চত্বরে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এই পরিষেবা আবার চালু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবার নিশ্চিন্ত হয়েছেন। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে হাতে লেখা বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার কারণে অনেককে নানা অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র দরকার হয়। কিন্তু এই জরুরি পরিষেবাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অনেককেই পুরসভায় বারবার গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।
তাই, এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিষেবাটি পুনরায় চালু হওয়ায় আবেদনকারীরা বেজায় খুশি। তাদের মধ্যে কারও সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জরুরি ভিত্তিতে ডিজিটাল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন, তো আবার কেউ তাদের পুরোনো জন্ম শংসাপত্রের বানান ভুল বা অন্যান্য ত্রুটি সংশোধন করার জন্য অনেকদিন ধরে চেষ্টা করেন যাচ্ছেন। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্রের প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পুজোর মাসে সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারে ডবল বেতন
কৃষ্ণনগর পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীদের একটি সাদা কাগজে তাদের মোবাইল নম্বর সহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এর সাথে তাদের হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্রের একটি ফটোকপি, বাবা-মায়ের আধার কার্ড ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরে, পুরসভা ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু করবে।
এক গৃহবধূ জানান, তার মেয়ের স্কুল থেকে বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাইজ করতে বলেছিল, কিন্তু পুরসভায় কাজ বন্ধ থাকায়, অনেক চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন আবার কবে চালু হবে এই প্রক্রিয়া, তা তাঁর জানা ছিল না। খোঁজ নিতে এসে দেখেন পুনরায় ডিজিটাইজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই এখন তিনি কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: শাপলা পাতার উপর ভাসবেন মানুষ, হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে চালু ওয়াটার রাইড
আরেক ব্যক্তি বলেন, তাঁর ছেলের বার্থ সার্টিফিকেটে নামের বানান ভুল আছে। কিছু মাসের জন্য সবকিছু স্থগিত ছিল। তবে এখন যেহেতু ডিজিটাল পরিষেবা আবার চালু হয়েছে, তাই তিনি অবশেষে ভুলটি সংশোধন করাতে পারবেন। অনেকদিন ধরেই নাগরিকরা চাইছিলেন পুনরায় শুরু হোক এই জরুরি পরিষেবা। এখন তাদের আশা ভবিষ্যতেও এই পরিষেবাটি নিয়মিত ও দক্ষতার সাথে প্রদান করবে পুরসভা।










