প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিলবোর্ড খোলা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়কে (Camac Street TMC Office) ঘিরে একের পর এক বিতর্ক যেন লেগেই রয়েছে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওই পার্টি অফিসে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা ফায়ার অডিটের (TMC Office Fire Audit) নোটিস পাঠাল রাজ্যের দমকল বিভাগ। যা নিয়ে শুরু হল আরও এক নয়া বিতর্ক, তাই এবার বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সরকারকে ধিক্কার অভিষেকের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল, সোমবার, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে টার্গেট করে লেখেন যে, “তিন দিন আগে বেআইনিভাবে আমাদের দলের সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে বিজেপি সরকারের মন ভরেনি। আজ আবার আমাদের পার্টি অফিসে ফায়ার অডিট করতে পাঠানো হয়েছে দমকল বিভাগকে। সঙ্গে ক্যামেরা, প্রচার আর পরিচিত মিডিয়া সার্কাস। বাহ! প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়! শুধু আফসোস, এই অসাধারণ তৎপরতা তখন কোথায় ছিল, যখন ভোটের মাত্র এক মাসের মধ্যে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে গিয়েছিল ৪,০০০টি কন্ট্রোল ইউনিট, ৪,০০০টি ব্যালট ইউনিট এবং ৪,০০০টি VVPAT? তখন আগুন নিয়ে এত মাথাব্যথা ছিল না কেন?”
আলিপুরের ঘটনা টেনে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে, “বোঝাই যাচ্ছে, ১২,০০০ নির্বাচনী যন্ত্র আগুনে পুড়লে সরকারের ঘুম ভাঙে না, কিন্তু বিরোধী দলের অফিস দেখলেই অগ্নিসুরক্ষার প্রতি হঠাৎ প্রেম উথলে ওঠে! আসলে ফায়ার অডিটটা ভুল জায়গায় হচ্ছে। সময়মতো আলিপুরের সরকারি দফতরে অডিটটা হলে হয়তো ১২,০০০ মেশিনই বেঁচে যেত। আর অডিটটা যদি একটু গভীরে হত, আগুনের কারণের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের আসল মুখটাও হয়তো বেরিয়ে পড়ত।” উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দমকল বিভাগের একটি দল ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে প্রবেশ করে আপৎকালীন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন।
আরও পড়ুন: শারীরিক অবস্থার অবনতি আন্না হাজারের, ভর্তি মুম্বাইয়ের হাসপাতালের ICU-তে, কী হয়েছে?
দমকল আধিকারিকদের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় একাধিক গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা বিকল থাকার পাশাপাশি সেখানে কোনও হিট ডিটেক্টর বা স্মোক ডিটেক্টর বসানো নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তাঁদের দাবি আগে মাত্র একবারই নাকি এই ভবনে ফায়ার অডিট করা হয়েছিল। পাশাপাশি ভবনটি নির্মাণের সময় কলকাতা পুরসভায় জমা দেওয়া মূল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে নাকি তাও খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।










