সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মরার উপর আবারও খাঁড়ার ঘা! ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের। এবার ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। এমনকি থানা সেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলেও খবর। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ করে আবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ লেখানো হল?
ফের অভিযোগ অভিষেকের বিরুদ্ধে
সাংসদ হিসেবে তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ২ মে অভিষেকের এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। যেখানে তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতি খর্ব করেছিলে বলে দাবি করা হয়। এমনকি গুজরাটি সম্প্রদায়কে গ্যাং বা অপরাধী চক্র হিসেবে অভিষেক উল্লেখ করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্য শুধুমাত্র সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈচিত্র্যকেও খর্ব করেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প উন্নয়ন বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে গুজরাটি সমাজ অবদান রাখে। আর তাদেরকে প্রকাশ্যে এরকম মন্তব্য করা দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কাজ।
এমনকি সাংসদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচনের আগে প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গুজরাটি সম্প্রদায়কে বিভিন্ন কুখ্যাত মন্তব্য করেন। এমনকি গুজরাটি ‘গুন্ডা’ হিসাবে উল্লেখ করেন। তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে বিভিন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তা নিয়ে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলেই অভিযোগকারীর দাবি। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে সরাসরি তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। আর ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়েও একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ব্যক্তি।
আরও পড়ুন: বাদুড়িয়ায় পাটক্ষেতে টাকার ভাণ্ডার, তৃণমূল পুরপ্রধানের দেখানো জায়গা খুঁড়তেই উদ্ধার গুপ্তধন
অভিযোগে আরও বলা হয় যে, রাজনৈতিক মতভেদ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু কোনও রকম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা কোনও রাষ্ট্রীয় নেতার একতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এমনকি লোকসভা কেন্দ্রের একজন সাংসদের মুখে এরকম মন্তব্যকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবিরোধী হিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দাবি করা হয়। সেই কারণেই ওই এক্স পোষ্টের সম্পূর্ণ তদন্ত করে অভিষেকের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে ভবানীপুর থানায়।










