বাদুড়িয়ায় পাটক্ষেতে টাকার ভাণ্ডার, তৃণমূল পুরপ্রধানের দেখানো জায়গা খুঁড়তেই উদ্ধার গুপ্তধন

Published:

Baduria

সৌভিক মুখার্জী, বাদুড়িয়া: গত পরশুদিন গ্রেফতার হয়েছেন বাদুড়িয়া (Baduria) পৌরসভার চেয়ারম্যান। এমনকি তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা নগদ। আর এবার পাট ক্ষেতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল বস্তা ভর্তি টাকা, যা কয়েক কোটি হতে পারে। উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ার গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের পুরপ্রধানের দেখানো এলাকাতেই মাটি খুড়ে চক্ষু চড়কগাছে ওঠে পুলিশের। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও তদন্তকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভিড় একেবারে উপচে পড়ার মতো।

প্রথম দফায় ৮০ লক্ষ

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, মঙ্গলবার বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করার পর তাঁর একটি কম্পিউটার সেন্টারে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তদন্তকারীরা নিশ্চিত ছিলেন যে, দুর্নীতির জল আরও গভীরে। সেই সূত্রে দীপঙ্করকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বুধবার বাদুড়িয়া পুর এলাকায় ফের তল্লাশি করতে যায় পুলিশ। তবে সকালে দীপঙ্করের বাড়ির পাশের একটি পাট ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে চাষীরা লক্ষ্য করেন যে মাটির নিচে কিছু একটা সন্দেহজনক পোঁতা রয়েছে। তড়িঘড়ি তাঁরা আতঙ্কে থানায় খবর দেন।

এমতাবস্থায় পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত চেয়ারম্যান দীপঙ্করকে নিয়ে পৌঁছয়। তারপর তাঁর দেখানো নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তেই একে একে বড় বড় সুটকেস এবং বস্তা বেরিয়ে আসতে থাকে। আর সেগুলির লক খুলতেই দেখা যায় থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার বান্ডিল, যা দেখে কার্যত চোখ দাঁড়িয়ে যায় পুলিশ অফিসারদের। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এই টাকার অংক কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে ফের টাকার মান পরিবর্তন, দেখুন রেট

এদিকে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বাদুড়িয়া পুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বিগত দিনগুলোতে পুরসভার সাধারণ কাজ বা একটি সার্টিফিকেট নিতে গেলেই চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হতো। এমনকি প্রচুর টাকা আদায় করা হতো। এলাকার এক প্রবীণ নাগরিক ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের যদি পৌরসভা থেকে কোনও নোটিশ বা সার্টিফিকেট দরকার পড়ত, কিংবা প্রয়োজনীয় কোনও ফর্ম তুলতে গেলেই চেয়ারম্যানকে আগে টাকা দিতে হতো। কাজের গুরুত্ব বুঝে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন উনি। আর এখন পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে টাকাগুলোকে মাটিতে পুঁতে রেখেছিলেন। মাটির নিচে নাকি টলি ভর্তি সোনাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে।