সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে বুধবার ফের মার্কিন বাজারে ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)। এদিন লেনদেনের শুরুতেই প্রথম পর্বে মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে রুপির দাম ৭ পয়সা পতন হয়। দিনের শুরুতে ডলার প্রতি রুপির বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫.৭৫ টাকা, যা মঙ্গলবার বাজার বন্ধের সময় ছিল ৯৫.৬৮ টাকা। যদিও পরে আবার কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে টাকা।
কেন চাপ বাড়ল রুপির উপর?
বুধবার ফরেক্স মার্কেটে রুপির এই পতনের পেছনে বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করছেন। প্রথমত, মঙ্গলবার ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অঞ্চলে ফের নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। আর এই সংবেদনশীল নৌপথে নতুন করে অশান্তি সূত্রপাত ঘটায় বিশ্ববাজারে আবারও অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে। দ্বিতীয়ত, হামলার খবর পেয়ে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও ৯৮.৮ ডলারের পাশাপাশি ঘুরছে, যা ১০০ ডলারের দোরগোড়ায়। আর ভারত যেহেতু তার সিংহভাগ তেল আমদানি করে থাকে, তাই বেশি ডলার খরচ করতে হয় এবং রুপির উপর চাপ পড়ছে। এছাড়া ভারতের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে অন্যান্য দেশের মুদ্রার উপরও চাপ পড়ছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তা রুপির অবমূল্যায়নের সবথেকে বড় কারণ। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার এবং বন্ড বাজার থেকে আনুমানিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা তুলে নিয়েছে। এমনকি গত ২৫ মে ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার বাজারে ২৩০.৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনলেও বন্ড বাজার থেকে প্রায় ২০.৩ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে। .
আরও পড়ুন: DA মামলা নিয়ে রামধাক্কা খেলেন বাংলার সরকারি কর্মীরা! বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
এদিকে বহুজাগতিক গবেষণা সংস্থা আইএনজির প্রধান দিপালী ভার্গব এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বুনিয়াদ যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দামের অতিরিক্ত নির্ভরতা রুপির দামকে দিনের পর দিন তলানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, আমাদের অনুমান, বছরের শেষ নাগাদ ডলার এবং রুপির বিনিময় মূল্য ৯৫.৫০ টাকার আশেপাশে ঘুরতে পারে।










