অনন্যা সরকার, মুর্শিদাবাদ: এক ছিমছাম সুন্দর করে সাজানো ছাদ বাগান (Rooftop Garden)। সেখানেই ফলছে দেশবিদেশের ৪৬ প্রজাতির ফল, তার মধ্যে অন্যতম হল বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম ‘মিয়াজাকি’ (Miyazaki Mango)। আন্তর্জাতিক বাজারে জাপান থেকে আসা এই আমের দাম প্রায় ৮০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭,৭০০ টাকা)। হালকা বেগুনি আভা যুক্ত এই দুর্লভ আমের আকার অনেকটা ডিমের মতো, তাই জাপানে এক ‘এগ অফ সান’ বা সূর্যডিমও বলে। দেশি বিদেশি ফলের গাছে সাজানো এই ছাদ বাগানটি তৈরি করেছেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানার নতুন চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন বিশ্বাস।
ছাদ বাগানে দেশ-বিদেশের নানা ফল ফলছে একসাথে
৭০ বছরের বৃদ্ধ গিয়াসউদ্দিন পেশায় একজন চাষী। বিগত ৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভালোবাসার ফল তাঁর এই ছাদবাগান। বহুদিন থেকে ছাদটি খালি পড়ে আছে দেখে এখানে একটি বাগান তৈরি করার কথা ভাবেন গিয়াসউদ্দিন। ২০২০-তে হুগলির আরামবাগের একটি নার্সারি থেকে মিয়াজাকি আমের চারা কিনে আনেন তিনি। তখন অনেকে তাঁকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছিল। বলেছিল এই আম ছাদে ফলানো সম্ভবই নয়। তবে লোকের কথায় দমে না গিয়ে গিয়াসউদ্দিন প্রতিদিন জল, সার দিয়ে বিশেষভাবে পরিচর্যা করতেন গাছের। আজ সেই গাছেই ফলে রয়েছে স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই জাপানি আম।
যাতে সমানভাবে রোদ পেয়ে আমগুলিতে রঙ ধরে এবং পাখি বা পোকায় এগুলো নষ্ট না করতে পারে তাই প্রতিটি আমকে সবুজ জাল দিয়ে মুড়ে রেখেছেন গিয়াসউদ্দিন। মিয়াজাকি আমের অন্যতম আকর্ষণ হল এর রং। ফল পাকলে গাঢ় লালচে-বেগুনি আভা দেখা যায়। ডিমের মতো দেখতে এই আম স্বাদে যেমন মিষ্টি, তেমনই গন্ধে অতুলনীয়। প্রচুর পরিমানে শর্করা ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর মিয়াজাকি। জাপানি সংস্কৃতিতে এই আমকে উপহার হিসাবে দেওয়ার চল আছে।
তবে মিয়াজাকি আম ছাড়াও, গিয়াসউদ্দিন বিশ্বাসের ছাদ বাগানে বিশ্বের ছোট ছোট টুকরো যেন একত্রিত হয়েছে। এখানেই ফলছে আরবের আজওয়া ও খুরমা খেজুর, থাইল্যান্ডের বারি-৪ আম, দেশের হিমাচলের আপেল, ভিয়েতনামের ড্রাগন ফ্রুট,জামরুল, কামরাঙা, তাইওয়ানের পেয়ারা, থাইল্যান্ডের সবেদা, ব্ল্যাক জাম, মায়ানমারের কাঁঠাল, মৌসুমি লেবু, কমলা লেবু সহ মোট ৪৬ প্রজাতির ফলের গাছ। সব গাছই হয় টবে নাহলে ড্রামে লাগানো।
আরও পড়ুনঃ শুধু জুটমিল নয়, এবার টার্গেট বন্ধ চা বাগান! সব খোলার নির্দেশ অর্জুন সিংয়ের
এই গাছগুলির পরিচর্যার জন্য উদয়াস্ত খাটেন গিয়াসউদ্দিন। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিজে হাতে যত্ন নেন তার শখের ছাদ বাগানের। রাসায়নিক কীটনাশক নয়, সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করেন। দেশ বিদেশের দামি ফলে সাজানো এই বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান তাঁর বাড়িতে। অনেকেই তাঁর এই উদ্যোগ দেখে নিজেদের বাড়ির ছাদেও বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন।










