শুধু জুটমিল নয়, এবার টার্গেট বন্ধ চা বাগান! সব খোলার নির্দেশ অর্জুন সিংয়ের

Published:

Arjun Singh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুধু জুটমিল নয়, এবার উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চা শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh)। বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকা মেটানোর জন্য বাগান মালিকদের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি। রবিবার বন্ধ বাগানগুলির শ্রমিক সংগঠন এবং মালিকপক্ষকে নিয়ে আলাদা ভাবে বৈঠক করার পর এমনই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন শ্রমমন্ত্রী।

চা বাগান খোলা নিয়ে বড় নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, রবিবার উত্তরকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন শ্রম এবং পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। উপস্থিত ছিলেন শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, শ্রমিক সংগঠন এবং মালিকপক্ষ। এরপর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন অর্জুন সিং। তিনি সাফ জানান, “বন্ধ এবং অচল অবস্থায় সব মিলিয়ে ৩২টির মতো বাগান রয়েছে। সবগুলি আগামী এক মাসের মধ্যে খুলতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশে FIR করা হবে। প্রয়োজনে দোষী মালিকদের জেলেও যেতে হতে পারে। পাশাপাশি শ্রমিকদের আইনি প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিলে প্রশাসন আইনের শেষ সীমা পর্যন্ত যাবে।”

কী বলেছেন অর্জুন সিং?

বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চা শ্রমিকদের সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। সেই সংগঠনের বাম নেতা জিয়ায়ূল আলম জানিয়েছেন, ‘‘বন্ধ বাগান খোলার কথা বলেছি। সেটা শুনেছেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তৃণমূল সরকারের এসওপি বাতিল করতে বলা হয়েছে।’’ বৈঠক শেষে পূর্বতন সরকারের আমলের একটি বড় সড় দুর্নীতির দিকেও আঙুল তোলেন অর্জুন সিং। তাঁর মতে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মিলে চা বাগানগুলিকে কার্যত দখল করার জন্য কায়দা করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরি করেছিলেন। সঙ্গে বক্সি গ্রুপ বা সুব্রত বক্সির আত্মীয়েরা ছিলেন। সবকিছু এবার তদন্ত করা হবে।”

আরও পড়ুন: স্থগিত হতে পারে গুন্ডা দমন আইন, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল মামলা

প্রসঙ্গত, চা বাগানের দুর্নীতি নিয়ে অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ খারিজ করেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা কালীঘাটপন্থীদের জেলা চেয়ারম্যান গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‘জমি দখলের বিষয়ই নেই, ভুল কথা বলা হচ্ছে। নিয়ম মেনেই বাগানের অব্যবহৃত জমিতে চা পর্যটনের মতো কিছু করার কথা বলা হয়েছিল।’’অন্যদিকে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার পর এটাই ছিল অর্জুন সিং-এর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। আর সেই বৈঠকে চা শ্রমিকদের জন্য এইরূপ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা বেড়েছে।