রাজ্যের অনুমোদন ছাড়া মাদ্রাসায় শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ নয়, বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মাদ্রাসায় শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের নিয়োগ (Madrasa Teacher Recruitment) নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এমতাবস্থায় নিয়োগ সংক্রান্ত বড় রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। ৩৫০ র বেশি পিটিশন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এজি মাসিহ-র বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, কোনও রিট পিটিশনেরই কোনও মেরিট নেই বলে এই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। মাথায় হাত পড়ল মামলাকারীদের।

খারিজ করা হল ৩৫০-র বেশি পিটিশন

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং রাজ্য সরকারের অনুদানভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় বেতন প্রদানের দাবি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৩৬১ জন মামলাকারী কিন্তু সেই সময় মাত্র ১৩ টি আবেদনকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছিল। আদালতের তরফে জানানো হয়েছিল যদি এই ১৩টি আবেদনের মধ্যে বাস্তবতা পাওয়া যায়, তাহলে বাকি আবেদনকারীদেরও কথা শোনা হবে। কিন্তু আজ সবটাই খারিজ হয়ে গেল। আজ, বিচারপতি দত্ত স্পষ্ট জানান যে, “ কোনও রিট পিটিশনেরই কোনও মেরিট নেই। তাই রাজ্য সরকার ও সরকারি মাদ্রাসা পরিচালন পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলি নিজেদের প্রয়োজন মতো শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করতে পারবে না।”

১২ জেলায় খারিজি মাদ্রাসার ইন্সপেকশন

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করার পরেই মামলাকারীদের আইনজীবীদের পাল্টা দাবি, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা ফের সুপ্রিম কোর্টের উচ্চতর বেঞ্চে আবেদন করবেন। এদিকে বাংলায় কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এই ১২টি জেলার মাদ্রাসায় বিশেষ নজরদারি বা ইন্সপেকশনের নির্দেশ দিল রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। জানা গিয়েছে, ১৮ জনের একটি কমিটি আগামী ১৫ জুলাই থেকে শুরু করবে ইন্সপেকশনের কাজ। এবং ২১ জুলাইয়ের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে বলে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: আর পালিত হবে না ‘খেলা হবে’ দিবস, ১৬ আগস্ট নিয়ে নয়া পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ইন্সপেকশনে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান, সুযোগ সুবিধা, মাদ্রাসার ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, সিলেবাস, নিরাপত্তা-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। মূলত, মাদ্রাসার আড়ালে বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে এই পদক্ষেপ। কিন্তু এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার মামলাকারীরা পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।