বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভায় বিল (Control Of Anti-Social Activities Bill) পাস হয়ে গিয়েছিল আগেই। আজ অর্থাৎ সোমবারই রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে গুন্ডা দমন আইন। মূলত দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত আটকাতেই এই নতুন আইন চালু করতে চলেছে প্রশাসন। ঠিক সেই দিনই শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই নয়া আইনে স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন CPIM নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্জ ইতিমধ্যেই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। যদিও এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন মানবাধিকার কর্মী মিলন মালাকার।
শীঘ্রই হতে পারে শুনানি
বাংলায় ক্ষমতায় আসতেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর ফ্রি হ্যান্ড পেয়ে গিয়েছে পুলিশ। তবে দাঙ্গাকারি বা দোষীদের রুখতে আরও কঠোর হয়েছে সরকার। গত 29 জুন বিধানসভায় পাস করানো হয় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল 2026। ওই বিল অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি হিংসাত্মক কোনও কাজে জড়িত থাকেন কিংবা বিশৃংখলা তৈরি করার চেষ্টা করেন তবে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ।
শুধু তাই নয়, আজ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া গুন্ডা দমন আইন অনুযায়ী, যদি কেউ সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেন তবে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে সরকার। এখানেই শেষ নয়, এই আইনেই অশান্তির আঁচ পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করার অধিকার রয়েছে পুলিশের। এছাড়াও হিংসাত্মক কাজে কাউকে সাহায্য করা কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলেও আইনের মারের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।
অবশ্যই পড়ুন: একুশে জুলাইয়ের আগে ধর্মতলায় ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কলকাতা হাইকোর্টে কালীঘাট তৃণমূল
নতুন গুন্ডা দমন আইনের আওতায় দুষ্কৃতীদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে অপরাধ কমানো যাবে বলেই আশা করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে এই বিলের চরম বিরোধিতা করেছেন CPIM নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একেবারে গায়ের জোরে এই আইন লাগু করতে চাইছে বিজেপি। সন্দেহের বশে যে কাউকে গ্রেফতার করা সংবিধান এবং মানবাধিকার বিরোধী। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই আইন স্থগিত করে দেওয়া হোক এমন আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। সেই অনুরোধে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ অনুমতি দিতেই এই সপ্তাহেই হতে পারে শুনানি।










