বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল আমলে যে দুর্নীতি (West Bengal Corruption) হয়েছে সেটা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ধ্রুব সত্য! আর সেই দুর্নীতির কারণেই রাজ্য সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ হয়ে গিয়েছে। সেইসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে গেছে অসাধুদের পকেটে। এবার প্রমাণ সহ এমনটাই দাবি করলেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গোটা রাজ্যে পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে ডিসিআর বা ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার নিয়ে বিরাট কেলেঙ্কারি হয়েছে।
15 বছরে লুঠ হয়েছে 10 হাজার কোটি টাকা!
সিউড়ির নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একেবারে প্রমাণ সহ পূর্বের সরকারের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর একেবারে স্পষ্ট দাবি, তৃণমূল জামানায় অর্থাৎ দীর্ঘ 15 বছর ধরে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ডিসিআর পরিচালনা করার মধ্যে দিয়ে আড়ালে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব লুঠ হয়েছে। এদিন একেবারে প্রমাণ দেখিয়ে ফাঁকি যাওয়া রাজস্বের পরিমাণটাও বলে দেন বিজেপি বিধায়ক।
সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, তৃণমূল জামানায় বীরভূমের বিভিন্ন পাথর খাদান ও স্টোন চিপস বহনকারী গাড়িগুলি থেকে ডিসিআর বাবদ টাকা তোলার কাজ করতো এক বেসরকারি সংস্থা। ফলে রাজ্যের কোষাগারে প্রতিদিন যতটা অর্থ আসার কথা তার থেকে অনেকটাই কম অর্থ জমা হতো। বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, এর আগে গত বছর অর্থাৎ 2025 এর এপ্রিল মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন সরকারের খাতে রাজস্ব জমা পরতো মাত্র 19 লাখ টাকা।
পরবর্তীতে নভেম্বর মাস থেকে এ বছরের মার্চ মাস অর্থাৎ বিধানসভার নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজ্য সরকার খানিকটা নড়েচড়ে বসায় সরকারের খাতায় প্রতিদিন 70 লাখ টাকার রাজস্ব জমা পড়তো। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে, সমস্ত ধরনের ফেক ডিসিআর বা অবৈধ ডিসিআরগুলিকে তুলে দিয়ে রাজ্য সরকারের চারটি দপ্তরের কাঁধে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত ভূমি দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন, সাধারণ প্রশাসন এবং একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ডিসিআর চেক গেটে একসঙ্গে কাজ করছেন।
তৃণমূল বিধায়কের দাবি, গত 17 মে থেকে সরকার সরাসরি রাজস্ব আদায় শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে মোট নয়টি গেট থেকে চালান কাটা হয়েছে। মহম্মদ বাজার থেকে শুরু করে রামপুরহাট এক নম্বর ব্লক, ময়ূরেশ্বর এক নম্বর ব্লক, নলহাটি এক নম্বর ব্লক সহ মুরারই এলাকায় থাকা চেকগেটেগুলি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে অর্থ। ওই বিধায়ক বলছেন, প্রথম দিন সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছিল 1 কোটি 20 লাখ টাকা। দ্বিতীয় দিনে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় 2 কোটি 30 লাখ টাকায়। ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা আশা করছেন, আগামীতে প্রতিদিন এই রাজস্বের পরিমাণ দিয়ে দাঁড়াবে 3 কোটি টাকায়।
অবশ্যই পড়ুন: DA নিয়ে এখনই ভরসা হারাবেন না! পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের জন্য বড় বার্তা
বিধায়কের দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পরই রাজস্ব আয়ের পরিমাণ এতটা বেড়েছে। যেখানে আগের 15 বছর ধরে সরকারের রাজস্ব লুঠ হচ্ছিল। বিধায়ক বলেন, বর্তমানে সরকারের আমলে মাসে 90 থেকে 100 কোটি টাকা আয় সম্ভব। সেখানে এর আগে মাসে 25 থেকে 30 কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে সরকার। অর্থাৎ প্রতি মাসে যদি প্রায় 70 কোটি টাকার গরমিল থাকে সেই হিসেবটা 15 বছরে গিয়ে 10 হাজার কোটি টাকারও বেশি অঙ্কে দাঁড়াচ্ছে। অর্থাৎ এই পরিমাণ সরকারি রাজস্ব লুঠ হয়েছে তৃণমূল জামানায়, এমনটাই দাবি বিজেপি বিধায়কের।










