বাংলাদেশ, পাকিস্তানিদের সঁপতে হবে পাসপোর্ট, ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কঠিন আইন

Published:

Central government tightened CAA Rules

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আগেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এদেশের নাগরিকত্ব (CAA Rules) দেওয়ার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার সেই নিয়মেই কড়াকড়ি করছে কেন্দ্র। জানা যাচ্ছে, এবার থেকে প্রতিবেশী দেশগুলির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠিন নিয়ম মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ এবার থেকে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিতে হবে ভারত সরকারকে। সেই মর্মেই বিশেষ ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক করে দিল নয়া দিল্লি।

নয়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার

জানা যাচ্ছে, 2009 সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার থেকে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের আবেদনকারীদের নিজেদের সাথে দেশের বৈধ প্রমাণপত্র অর্থাৎ পাসপোর্ট রাখতে হবে। ওই পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে চলবে না। সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলির সংখ্যালঘুদের কাছে যদি বৈধ পাসপোর্ট থেকে থাকে, সে ক্ষেত্রে আবেদন করার সময় সেই পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্টটি কবে ইস্যু করা হয়েছিল এবং এর মেয়াদ কত দিন রয়েছে সেই সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য দিতে হবে ভারত সরকারকে।

নিজের বৈধ-নথি সহ অন্যান্য তথ্য জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আবেদনকারীকে নিয়ম মেনে মুচলেখা দিতে হবে। ওই ব্যক্তিকে জানাতে হবে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার 15 দিনের মধ্যেই কাছে থাকা বৈধ অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট নির্দিষ্ট ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারের কাছে জমা দিয়ে আসবেন। সব মিলিয়ে বলাই যায়, 2009 সালের নাগরিকত্ব বিধিতে নতুন পাসপোর্ট এর নিয়ম যুক্ত করে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট এর অপব্যবহার পুরোপুরি রুখে দিতে চাইছে কেন্দ্র।

অবশ্যই পড়ুন: শায়েস্তা হবে চিন, বাংলাদেশ! চিকেন নেক নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

উল্লেখ্য, 2009 সালের মূল নাগরিকত্ব বিধির 1সি তফসিল তৈরি করা হয়েছিল মূলত 2014 সালের 31 ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতের পালিয়ে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, এমনকি পারসি সম্প্রদায়ের মানুষজনকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য। এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেই মূল নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে তাতে একটি নতুন অনুচ্ছেদ বা ধারা জুড়ে দিয়েছে। এই নতুন অনুচ্ছেদ মূলত বিধিমালা 1সি তফসিল এর পরেই যুক্ত করা হয় হচ্ছে।