কার সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল জাহাঙ্গীর খান? যা জানাল তৃণমূল

Published:

Jahangir Khan

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পুননির্বাচনের আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। আগামী ২১ মে ভোটে লড়বেন না তিনি। ফলে বিজেপির জয়জয়কার অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যে ‘পুষ্পা’ কারও কাছে ঝোঁকেনা, সে কেন নির্বাচনের আগে নিজেকে তুলে সরিয়ে নিল? তাহলে কি ভয় পেলে তৃণমূল? এবার জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানো নিয়েই দলের (Trinamool Congress) তরফ থেকে জারি করা হল অফিসিয়াল বিবৃতি।

কী বলল তৃণমূল কংগ্রেস?

‘পুষ্পা’ তথা জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানো নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে অফিসিয়াল বিবৃতি জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, ফলতা পুননির্বাচনে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। এটা দলের কোনও সিদ্ধান্ত নয়। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের দলের প্রায় ১০০ জনের বেশি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি দিনের আলোতে ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আর জোড়পূর্বক পার্টি অফিসগুলি দখল করে নেওয়া হয়েছে।

অথচ আমাদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। চোখ বন্ধ করে রয়েছে। আর এরকম প্রবল চাপের মুখেও আমাদের কর্মীরা অটল রয়েছেন, এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপি যে ভয় দেখানোর কাজ করেছে, তার বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধও গড়ে তুলেছেন। কিন্তু শেষমেশ কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন, আর নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গতেও এবং দিল্লিতেও।

আরও পড়ুন: ‘অনুপস্থিত মানেই নীরবতা নয়, শীঘ্রই দেশে ফিরব’, ভারতে বসে বললেন হাসিনা

প্রসঙ্গত, আজ দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে হঠাৎ করে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান জানিয়ে দেন যে, তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এমনকি তিনি দাবি করেন যে, ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কারও সঙ্গে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁর ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ। তবে নেপথ্য কোনও রকম রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে কিনা সে বিষয়ে থেকে যাচ্ছে সন্দেহ। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এদিন।