তার সাক্ষীতেই দাহ হয় অভয়ার, গ্রেফতারির ভয়ে হাইকোর্টে তিলোত্তমার প্রতিবেশী সঞ্জীব

Published:

RG Kar Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) নয়া মোড়! এবার তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতারি এড়াতে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন তিলোত্তমার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই আরজি কর ঘটনার তদন্ত নিয়ে নতুন করে পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি সাসপেন্ড করা হয়েছে মামলার দায়িত্বে থাকা ৩ IPS অফিসারকে। আর তাতেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ তিলোত্তমার প্রতিবেশী

আরজি করের ঘটনার জল নতুন করে গড়িয়েছে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে। সূত্রের খবর, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত চেয়ে শিয়ালদহ আদালতে মামলা দায়ের করেছিল মৃত চিকিৎসকের পরিবার। সেখানে পানিহাটির তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়। এবার সেই মামলাতেই অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।

গ্রেফতারি এড়াতে জরুরি পদক্ষেপ

রিপোর্ট অনুযায়ী, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় হলেন ওই নির্যাতিতা চিকিৎসকের এলাকারই বাসিন্দা। সকলেই ‘কাকু’ বলেই ডাকে। অভিযোগ ছিল নির্যাতিতার দেহ দাহ করার সময় পানিহাটি শ্মশানঘাটের নথিতে সঞ্জীবের সই ছিল। আর তাতেই এই মামলা মোকদ্দমা। কিন্তু এবার সেই মামলায় আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবী, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিযোগ করেন, তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চান। তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পরে তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আদালত তাঁকে মামলা দায়ের করার অনুমতিও দেয়।

আরও পড়ুন: “রাষ্ট্রের কাজ ধর্ম পোষা নয়” বাংলায় ধর্মীয় ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্তে সায় তসলিমা নাসরিনের

স্থানীয় সূত্রেই দাবি, এক সময়ে সিপিএমের কাউন্সিলার ছিলেন সঞ্জীব। তার পরে ভোটে হেরে বেশ কয়েক বছর ‘দলহীন’ ছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ভয় যেন আরও আঁকড়ে ধরল। এখন দেখার এই মামলায় কী রায় প্রদান করেন হাইকোর্টের বিচারপতি।