প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল হতেই ফের বড় পদক্ষেপ! রাজ্যের দ্বিতীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় ভিত্তিতে (Religion Based Schemes) সমস্ত রকম সরকারি ভাতা ও আর্থিক সহায়তামূলক প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ হতে চলেছে। সরকারি ভাতা বন্ধের নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন চর্চিত জনপ্রিয় সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
বাতিল ধর্মীয় সহায়তামূলক প্রকল্প
গতকাল, সোমবার মন্ত্রীসভার দ্বিতীয় বৈঠক শেষে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘোষণা করেছিলেন যে, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরে প্রদত্ত সমস্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে। চলতি মাস পর্যন্ত এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া গেলেও, আগামী মাস অর্থাৎ জুন থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে।” এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। এবার সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন বাংলাদেশি স্বনামধন্য সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।
সিদ্ধান্তকে স্বাগত তসলিমার
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তসলিমা নাসরিন একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। জানান যে, ‘আগামী জুন মাস থেকে ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিতদের ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। এটা খুব জরুরি সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্র যখন ইমাম-মোয়াজ্জেম-পুরোহিত বা অন্য ধর্মীয় কর্মীদের ভাতা দিতে শুরু করে, তখন প্রশ্ন ওঠে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ কি ধর্মীয় পদাধিকারীদের অর্থনৈতিকভাবে পোষণ করা? তাই ধর্মীয় পদাধিকারীদের জন্য সমস্ত রাষ্ট্রীয় ভাতাই বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কাজ ধর্ম পোষা নয়। ধর্মকে যত বেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে মেশানো হবে, সমাজ তত বেশি ধর্মান্ধতার দিকে যাবে, সাম্প্রদায়িকতার দিকে যাবে। ”
কী বলছেন চর্চিত সাহিত্যিক?
তসলিমা নাসরিন ফেসবুক পোস্টে আরও জানান যে, “রাষ্ট্র যদি করদাতার অর্থ দিয়ে মসজিদ-মন্দিরের কর্মচারীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাষ্ট্র আর নাগরিকদের নিরপেক্ষ অভিভাবক থাকে না, ধীরে ধীরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র যদি কাউকে সামাজিক নিরাপত্তা দিতে চায়, তাহলে নাগরিক হিসাবে দিক, ধর্মীয় কর্মচারী হিসাবে নয়। আজ ইমাম, কাল পুরোহিত, পরশু অন্য ধর্মের নেতা এভাবে রাষ্ট্র সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থদাতা হয়ে ওঠে। তখন রাজনীতি আর ধর্মের দূরত্ব কমতে থাকে। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মকে সমানভাবে খুশি রাখা নয়। রাষ্ট্রের টাকায় ধর্মীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।”
আরও পড়ুন: পথকুকুর নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! NGO, ডগ লাভার্সের আবেদন খারিজ
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের জন্য চালু হওয়া বিভিন্ন ভাতা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ তুলে ধরত সেই সময়ের বিরোধী দল বিজেপি। নির্বাচনের আগে বিজেপির মূল স্লোগানই ছিল ‘ভাতা নয়, ভাত চাই’। অর্থাৎ, খয়রাতির বদলে কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পদ্মশিবির। এবার সরকার গঠনের পর একে একে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হাঁটতে চলেছে।










