প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বেশ কয়েকটি জায়গায় পথকুকুর (Stray Dogs) কামড়ের দরুন দেশ জুড়ে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছিল, আর সেই কারণেই গত বছর, জন-নিরাপত্তায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এক যুগান্তকারী নির্দেশ জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুরদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবারও আগের নির্দেশই বহাল সুপ্রিম কোর্ট।
পথকুকুর অপসারণের নির্দেশ
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পথকুকুর মামলায় জন-নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বাস স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পথকুকুর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। এবং একই সঙ্গে কুকুরগুলিকে নির্দিষ্ট ডগ শেল্টারে স্থানান্তরিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে এই নির্দেশ খারিজের আবেদন জানিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত পথকুকুর প্রেমী ও এনজিওগুলো। তাঁদের দাবি ছিল, পথ কুকুরদের তাদের চেনা এলাকা থেকে দূরে কোথাও সরিয়ে দিলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারে, আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এবারও সেই আবেদন খারিজ করে দিল আদালত।
আগের নির্দেশই বহাল সুপ্রিম কোর্টে
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার পথকুকুর অপসারণের মামলায় শীর্ষ আদালত গত বছর নভেম্বর মাসে যে নির্দেশ দিয়েছিল সেই নির্দেশের NGO ও ডগ লাভার্সের দ্বারা করা পুনর্বিবেচনার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিল বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পথকুকুরদের বাড়বাড়ন্ত আর অবহেলা করার মতো নয়, আগের নির্দেশ বদলানো হবে না। অর্থাৎ, রাস্তা এবং জনবহুল জায়গা থেকে পথকুকুর সরাতে হবে, আর যাকে যেখান থেকে তুলে আনা হবে, নির্বীজকরণের পর তাকে ফের সেই জায়গায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: অভিষেকের বাড়ি ভাঙবে কলকাতা পুরসভা? বড়সড় পদক্ষেপ নিতে পারে KMC
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ছোট শিশুদের কুকুরে কামড়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকী বিদেশি পর্যটকরাও বিপদে পড়েছেন। ফলস্বরূপ সরকারি পদক্ষেপের অভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ছে শিশু ও প্রবীণদের অস্তিত্ব। তাই নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে সরকারের গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। নির্বীজকরণ ও টিকা দেওয়ার কাজ হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে, কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই। তাই এই অবহেলাকে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।










