কমাতে হবে খরচ, অ্যাকশন মুডে নবান্ন! একাধিক নির্দেশিকা জারি সরকারের

Published:

Nabanna

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কয়েকদিন আগেই খরচ কমানোর জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এবার ওই একই পথে হাঁটতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানা গিয়েছে সরকারি দফতরগুলিকে ব্যয় কমানো ও সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এবার বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হল নবান্নের (Nabanna) তরফ থেকে।

সরকারি খরচে রাশ টানতে ময়দানে শুভেন্দু

গতকাল, সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল একটি নির্দেশিকা জারি করেছিলেন। সেখানে সরকারি দপ্তর, জেলা প্রশাসন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন-সহ সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে ২০২৬-২৭ সালের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে, যেখানে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি হস্তক্ষেপ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল ও সময়সীমার উল্লেখ থাকবে। এবং আগামী ২২ মের মধ্যে ওই কর্মপরিকল্পনা মুখ্যসচিবের দফতরে জমা দিতে হবে।

ব্যয় কমাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা

সরকারি দফতরগুলিতে ব্যয় কমানোর বার্তা দিয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সরকারি সফর কমানো এবং গণপরিবহণ, কারপুলিং ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও শক্তি সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেপারলেস অফিস, ই-অফিস চালু এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপর জোর দিতে হবে।

স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কাজে ভিডিয়ো কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বেশি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কমাতে হবে খরচ, অ্যাকশন মুডে নবান্ন! একাধিক নির্দেশিকা জারি সরকারের

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং এই নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত সচিব ও জেলাশাসকদের বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে সরকারি মহলের একাংশের মতে, ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এখন দেখার এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ কতটা কার্যকরী হয়।