সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গত ১৫ বছর ধরে দুর্নীতি, কালোবাজারি, সিন্ডিকেট রাজ করেছে বাংলায়। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) মানেই যেন দুর্নীতি। আর সেই দুর্নীতিরই অবসান ঘটিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবারের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় হারিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। আর ৯ তারিখ সরকার গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে। এবার প্রকাশ্যে এল টাকার বিনিময়ে কীভাবে তৃণমূলের নেতারা সাধারণ মানুষকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিল তার রেট কার্ড (TMC Job Corruption)।
টাকার বদলে চাকরি
বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গলের অফিসিয়াল পেজ থেকে আজ একটি রেট কার্ড প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবী করা হচ্ছে যে, বাংলায় প্রকাশ্যে চাকরি বেচাকেনার বাজার চলত। সাধারণ যুবকদের স্বপ্ন, পরিবারের আশা আর ভবিষ্যৎকে নিলামে তুলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির সিন্ডিকেট। এমনকি প্রত্যেকটি চাকরির জন্য আলাদা আলাদা রেট নির্ধারণ করা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। যেমন—
- কেউ পৌরসভার শ্রমিক পদে চাকরি পেতে হলে তাকে ৪ লক্ষ টাকা দিতে হতো।
- ড্রাইভার পদে চাকরি পেতে হলে দিতে হতো ৪ লক্ষ টাকা।
- সামান্য সাফাই কর্মী পদে চাকরি পেলে দিতে হতো ৪ লক্ষ টাকা।
- গ্রুপ ডি পদে চাকরি পেতে হলে দিতে হতো ৪ লক্ষ টাকা।
- যদি কেউ গ্রুপ সি পদে চাকরি নিত তাহলে ৭ লক্ষ টাকা দিতে হতো।
- এছাড়া টাইপিস্ট পদে চাকরি পেলে দিতে হতো ৭ লক্ষ টাকা।
ওই পোষ্টে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলার ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা, মেধা, পরিশ্রম সবকিছুকে পায়ের তলায় রেখে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে এতদিন চাকরি বিক্রি করেছে তৃণমূল। এমনকি ইডি-র তরফ থেকেই ওই রেট কার্ড প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তার সত্যতা আমরা যাচাই করিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলায় চাকরি নিয়ে দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬,০০০ যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী চাকরি হারিয়েছিল। যার কারণে গোটা রাজ্যে তোলপাড় পড়ে যায়। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে চলেছে আন্দোলন। কিন্তু যোগ্য শিক্ষকরা এখনও পর্যন্ত তাঁদের চাকরি ফিরে পায়নি। যে কারণে অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাসে সিট বেল্ট পরা বাধ্যতামূলক, জানিয়ে দিলেন পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি
যদিও বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই ওএমআর সিট প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন, এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেকে সাদা ওএমআর জমা দিয়েও চাকরি পেয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি এও বলা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদে চাকরিহারাদের ওএমআর প্রকাশ করা হবে। তবে সিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে যে হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছিল, তার উপর ভিত্তি করেই এই ওএমআর শিট প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন, এমনটাই খবর। আর তারই মধ্যে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে, যা বর্তমান বিরোধী দলের ভাবমূর্তিকে আরও নিচে নামিয়ে এনেছে।










