সৌভিক মুখার্জী, ফলতা: গুঁড়িয়ে গেল অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল। ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে ফলতায় জয়লাভ করলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশ পন্ডা। যে পুষ্পার এত দাপট ছিল এতদিন, সেই পুষ্পা চলে গেল চার নম্বরে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিজেপি প্রার্থীকে ১ লক্ষ ভোটে জেতানোর কথা বলেছিলেন। আর সেই কথাই রাখল ফলতাবাসী। লুকিয়েই থাকলেন জাহাঙ্গীর খান। এদিকে জয়জয়কার রাজ্যের শাসক দলের (Falta Repoll Result)।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ বিজেপির
গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা। আর শেষ হল বিপুল ভোটে জয়লাভ দিয়ে। ২২ রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থীর ঝুলিতে গিয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট। অন্যদিকে সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মীর ঝুঁলিতে পড়েছে ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেসের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, যিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪ ভোট। আর পুষ্পা অর্থাৎ নাম তুলে নেওয়া তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান পেয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১টি ভোটে জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশ পন্ডা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল কারচুপি লক্ষ্য করা যায়। কোথাও ইভিএমে আতর ঢেলে দেওয়া হয়, কোথাও কোথাও টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির বোতামে। আর সেই অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নির্বাচন কমিশন গোটা বিধানসভার ২৬৫টি বুথে পুননির্বাচনের ঘোষণা করে। সেই মতোই গত ২১ মে এই বিধানসভা কেন্দ্রে পুননির্বাচন হয়েছে, এবং আজ ফল প্রকাশ। সবথেকে বড় ব্যাপার, পুনরায় ভোট গ্রহণেরআগে পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গির খান নিজেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ফলাফল কী হতে চলেছে। সেই মতোই জয়লাভ করল বিজেপি। অর্থাৎ বিধানসভায় ২০৭ আসন থেকে ২০৮ আসন হল এবার ভারতীয় জনতা পার্টির।
আরও পড়ুন: ‘তৃণমূলের আমলে মেয়েরা রাত ২টোয় ঘুরে বেড়াত, এখন ভয় পাচ্ছে!’ বিস্ফোরক মমতা
এদিকে শেষ দিন প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাবাসীকে ১ লক্ষ ভোটে বিজেপির জেতানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে এসেছিলেন। শেষমেষ তাঁর কথাই রাখল মানুষজন। বিজেপি প্রার্থী জিতলেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে। যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে লোকসভা ভোটে দেড় লক্ষ ভোটে লিড নিয়েছিল তৃণমূল, সেখানেই এবার শেষ ডায়মন্ড হারবার মডেল। জাহাঙ্গীর পেলেন মাত্র সাড়ে ৭ হাজারের কিছু বেশি ভোট। তবে উপনির্বাচনে নজর কেড়েছে সিপিএম। কারণ, বামফ্রন্টের ঝুলিতে গিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি ভোট।










