আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) অনুগামী শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জির (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন শিবিরের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত। দলের নেতৃত্ব ও পরিচয় নিয়ে দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) চোপড়ার (Chopra) তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান (Hamidul Rahman)। ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে তাঁর অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন তিনি। অর্থাৎ, ঋতব্রত শিবির ছেড়ে মমতাপন্থী শিবিরের সঙ্গে থাকার বার্তা দিলেন চোপড়ার এই বিধায়ক।
মমতাপন্থী শিবিরেই কেন আস্থা হামিদুলের?
হামিদুল রহমানের বক্তব্য, তিনি বরাবরই মমতা ব্যানার্জির অনুগামী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি এবং মমতাকেই দলের নেত্রী হিসেবে মানেন। বিধানসভা নির্বাচনের পর শারীরিক অসুস্থতা-সহ নানা কারণে দলীয় কর্মসূচি থেকে তাঁর কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় তাঁকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ঋতব্রত ব্যানার্জিকে সমর্থন করে সই করার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে হামিদুলের দাবি, সেই সইয়ের অর্থ কোনওভাবেই ঋতব্রতের পৃথক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ছিল না।
সই করার কারণ ব্যাখ্যা করে হামিদুল রহমান বলেন, “যেদিন সই করি সেদিন আলাদা দলের কোনও কথা হয়নি। ও বলেছিল দিদির দলেই থাকব। বিরোধী দলের অফিস ঘর নেওয়ার জন্যই আমরা কয়েকজন সই করেছিলাম। তারপর আমি কিছুদিন অসুস্থ ছিলাম, তখন শুনি বিরোধী দলের অনেকে অনেক কথা বলছে। আমরা কালীঘাট মমতা ব্যানার্জির দল করি, ওনার প্রতীকেই জিতেছি। তাঁকেই আমরা হাই-কমান্ড বলে মনে করি।” অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিষদীয় স্বার্থ এবং বিরোধী দলের অফিসঘর সংক্রান্ত বিষয়ে সহমত জানিয়েই তিনি সই করেছিলেন। ঋতব্রত পৃথক দল গঠন করবেন, এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা তখন তাঁকে জানানো হয়নি বলেও দাবি করেছেন হামিদুল। অসুস্থতার সময় নানা বক্তব্য তাঁর কানে আসে এবং তার পরেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে লন্ডভন্ড কাঁথি, উপড়ে পড়ল গাছ, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
এদিকে, তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই বিবাদে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবির সমর্থনে নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর। ফলে হামিদুলের মতো বিধায়কের প্রকাশ্যে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জানানোর ঘটনাকে এই শিবিরগত টানাপোড়েনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে মাত্র ১,৫০০ টাকায় চালু হচ্ছে বার্ষিক টোল পাস, কারা যোগ্য?
অন্যদিকে, মঙ্গলবার চোপড়ার আইটিআই কলেজ মাঠে চুটিয়াখোর অঞ্চলের তৃণমূল নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করেন হামিদুল রহমান। ওই বৈঠক থেকে অঞ্চল ও বুথ স্তরের কর্মীদের ফের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করার পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কাটিয়ে নিচুতলার সংগঠনকে সক্রিয় করাই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।










