‘খাম’ নিয়ে টানাটানি, ISF-র মামলায় কমিশনের রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট, প্রতীক পাবেন নওশাদ?

Published:

ISF Symbol

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করে নির্বাচন কমিশন ঋতব্রতপন্থীদের জন্য বরাদ্দ করেছে খাম চিহ্ন। তবে এতেই বিপাকে পড়েছেন নওশাদ সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। যেহেতু তারা রাজনৈতিকভাবে কোনও স্বীকৃত দল নয়, তাই আসন্ন উপনির্বাচনে তাদের পৃথক প্রতীকে (ISF Symbol) লড়তে হবে বলেই জানিয়েছে ইসিআই। এমনকি তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে আলমারি। তবে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল আইএসএফ। এবার আদালতের তরফে দেওয়া হল কমিশনের রিপোর্ট তলবের নির্দেশ।

কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ আইএসএফ

যেহেতু এবার তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, তাই আসল তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এমনকি দুই তৃণমূলের তরফ থেকে প্রতীক এবং নাম হিসেবে কিছু বিকল্প পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে মমতার শিবিরের জন্য বরাদ্দ করা হয় ফুটবল পায়ে ফুটবলারের ছবি এবং ঋতব্রতপন্থীদের জন্য বরাদ্দ করা হয় খাম। তবে এই একই নির্বাচনী প্রতীক, অর্থাৎ খামে জিতেই বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নওশাদ। তাই কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল আইএসএফ। তাদের হয়ে মামলা লড়েন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

এদিন বিকাশ রঞ্জন সওয়াল করেন, আইএসএফ নিজেও একই প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেন একটি দলকে সেই প্রতীক বরাদ্দ করা হল? এটা কি ক্ষমতার যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগ? যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, আইএসএফ একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল এবং সেই কারণে তারা সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার করতে পারে না। এমনকি ওই প্রতীকটি আইএসএফ-কে সাময়িকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। আর দলটি দু’দুবার সেই প্রতীক ব্যবহার করেছিল এবং পরে পুনরায় তা বরাদ্দ করা হয়।

আরও পড়ুন: পুজোর মুখে ফের ED হানা কলকাতায়, নেপথ্যে বিদেশি মুদ্রা কাণ্ড

কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এটি কীভাবে সম্ভব যে প্রতীকটি এতদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট দল ব্যবহার করে আসছে, তা অন্য কাউকে দিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সেই সূত্রে কমিশনকে হাইকোর্ট এদিন লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি কীভাবে একই প্রতীক নিয়ে দুই রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং এই জট ছাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাতে হবে কমিশনকে।