জগদ্দলে গুলিবিদ্ধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, পুলিশের জালে তৃণমূল কাউন্সিলর

Published:

Jagaddal

সৌভিক মুখার্জী, জগদ্দল: দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’টো দিন বাকি (West Bengal Election 2026)। তার আগেই উত্তপ্ত জগদ্দল (Jagaddal)। ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মধ্যে নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-র নিরাপত্তার রক্ষী সিআইএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কাউন্সিলর সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগের তীর শাসকদলের বিরুদ্ধেই।

জগদ্দলে গুলিবিদ্ধ সিআইএফএফ জওয়ান

অশান্তির শুরু গতকাল রাত থেকেই। তৃণমূল আর বিজেপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষ করে নোয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিং-র উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল থেকেই প্রত্যেকটি থানায় টহলদারি দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় বাহিনীর। থানার সামনেই ছড়ায় উত্তেজনা। মারধর, ইটবৃষ্টি, পাথর ছোড়াছুড়ি সবকিছুই চলে। এমনকি গুলিও চালানো হয়। আর তাতেই বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-র নিরাপত্তারক্ষী সিআইএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে।

এদিকে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ শর্মার অভিযোগ, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে এফআইআর দায়ের করা হয়নি। আর তারপর দেখা যায় যে, তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী থানায় ঢুকে যায়। সেখানে আনুমানিক ১৫০-২০০ লোক ছিল। আর তার উপর হামলা চালানো হয়।

পুলিশের জালে তৃণমূল কাউন্সিলর

অন্যদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্ত জানিয়েছেন, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছিল। অভিযোগ জানাতেই সেই সময় নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং ও তাঁর অনুগামীরা তাদের উপর চড়াও হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে এবং পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সেখানে বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পৌঁছতে হয়। তবে এই অশান্তির পর পুলিশ কোমর বেঁধে নেমেছে, এবং তৃণমূল কাউন্সিলর সহ চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরের খোঁজ চালাচ্ছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: ঋণ করে পড়ান চা ওয়ালা বাবা, প্রথমে ইঞ্জিনিয়ার পরে UPSC ক্র্যাক করে IAS হন ছেলে

এদিকে পবন সিং এর বাড়িতেও হামলার অভিযোগ। আচমকাই নাকি তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা। আর সেই সময় তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জওয়ানকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার শাসক দলের।

তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, পুলিশ এবং প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির হুকুম মতো কাজ করছে। তারা পুলিশ প্রশাসনকে একেবারে জোরজবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। সেইসব ঘটনাই দেখছি। অর্জুন সিং এদের মতো সবথেকে নাম করা গুন্ডা।