ঋণ করে পড়ান চা ওয়ালা বাবা, প্রথমে ইঞ্জিনিয়ার পরে UPSC ক্র্যাক করে IAS হন ছেলে

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিজের ভেতরে ইচ্ছাশক্তি আর জেদ থাকলে যে সবকিছুই সম্ভব তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন এক যুবক। রাজস্থানের সুমালাই গ্রাম। সেখানে এক চায়ের দোকান চালাতেন কুশলদান চারণ। সেই দোকানের সামান্য উপার্জন দিয়েই চলত পরিবারের ১০ জনের বিশাল সংসার। ছোটবেলা থেকে দরিদ্রতা নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। কিন্তু কুশলদান জানতেন যে পড়াশোনার শক্তি কতটা। আর আজ তাঁরই ছেলে দেশল দান চারণ দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি ক্র্যাক করে আইএস অফিসার হিসেবে গোটা দেশের নজর কেড়েছেন (UPSC Success Story)।

অভাবের সংসার থেকেই সাফল্যের লড়াই

দেশল দান চারণের লড়াইটা যে খুব একটা সহজ ছিল এমনটা নয়। বাবা চায়ের দোকানের আয় দিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটাতেই তাদেরকে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে পড়াশোনার খরচ চালানো তো একেবারে বিলাসিতা। তবে কুশলদান চারণ অভাবের আঁচ ছেলের গায়ে কোনও সময় লাগতে দেননি। ছেলের পড়াশোনার জন্য তিনি বারবার বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, শিক্ষা থাকলে একদিন সব ঋণ মেটানো সম্ভব।

তবে হ্যাঁ, দেশল যখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন, তখন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর বড় ভাই প্রাণ হারান। ভারতীয় নৌসেনার সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুতে গোটা পরিবারে একেবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকাতুর পরিবারকে সেই সময় আগলে রাখেন বাবা কুশলদান। আর বাবার সেই মানসিক শক্তিই দেশলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।

আইআইটি থেকে ইউপিএসসি

রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুল জীবন শেষ করেই নিজের মেধার পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। প্রথম প্রচেষ্টাতে তিনি আইআইটি জেইই পাশ করে জবলপুর আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। হাতে ভালো মাইনের বেসরকারি চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল তাঁর IAS হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তিনি দিল্লিতে চলে আসেন, আর দিনরাত এক করে প্রস্তুতি শুরু করেন।

আরও পড়ুন: অ্যান্টিলিয়ার আগে এখানে থাকতেন মুকেশ আম্বানি, চিনুন সেই পুরনো রাজপ্রাসাদ

এদিকে ২০১৭ সালে দেশল প্রথমবার ইউপিএসসি সার্ভিস পরীক্ষায় বসেছিলেন। আর ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, সর্বভারতীয় স্তরে তাঁর মাত্র ৮২ তম র‍্যাঙ্ক হয়েছে। কোনও নামীদামী কোচিং বা বিশেষ সুবিধা ছাড়াই শুধুমাত্র তাঁর পরিশ্রমেই তিনি বর্তমানে সফল আইএএস অফিসার। তাঁর লড়াইয়ের গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণা যোগায়।