সৌভিক মুখার্জী, বাঁকুড়া: ভোটের দোরগোড়ায় বাংলা। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026)। সেই আবহে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুল তুলে থানায় আত্মসমর্পণ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এমনকি স্বাস্থ্য বীমা থেকে শুরু করে মহিলাদের সহায়তা সহ বিজেপি সরকারের একাধিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে এদিন মুখ খোলেন মোদী। কিন্তু হঠাৎ করে থানায় আত্মসমর্পণ করতে বললেন কেন তিনি? কাদেরকেই বা টার্গেট করলেন?
বাংলায় দাঁড়িয়ে হুংকার মোদীর
এদিন বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভা ছিল। সেখানে সরাসরি টিএমসিকে নিশানা করলেন মোদী। সভা থেকেই হুংকার ছাড়লেন তিনি। সতর্ক করে বললেন, আমি তৃণমূলের সমস্ত সিন্ডিকেট, ভ্রষ্টাচারী গুন্ডাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগেই নিজ নিজ থানায় আত্মসমর্পণ করে নাও। বাঁকুড়ায় ২৩ তারিখের আগে করে নাও। ৪ মে-র পর আর তোমাদেরকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। এমনকি বাঁকুড়া নিয়ে মোদী এদিন স্পষ্ট বলেন, বিষ্ণুপুরের মাফিয়া, বালি-কয়লা পাথরের অবৈধ খননের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের সিন্ডিকেটরা কান খুলে শুনে রাখো। এইসব ৪ তারিখের পর আর চলবে না।
মোদীর সংযোজন, বিজেপি সরকার আসলে গরীবদের রেশন মিলবে। কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আবাস যোজনায় মিলবে দেড় লক্ষ টাকা। এমনকি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য বীমা মিলবে। আর কিডনির সমস্যা হলে বিনা পয়সায় ডায়ালিসিস মিলবে। পাশাপাশি রাজ্যের মহিলারা পাবে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ বছরের ৩৬ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তাদের। আর অন্তসত্ত্বা মহিলাদের ২১ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও সূর্য যোজনার আওতায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য মিলবে। আর বেকাররাও পাবে সাহায্য।
আরও পড়ুন: ৩০,০০০ হতে পারে EPFO-র বেতনসীমা, নয়া পরিকল্পনা সরকারের
এদিন ত্রিপুরা এবং অসমের উদাহরণ টেনে এনে মোদী বলেন, ত্রিপুরাতেও বামেদের সরকার ছিল। তবে সেখানেও মানুষ বিজেপিকে ভরসা করেছে। আর অসমে ছিল কংগ্রেসের শাসন। সেখানেও পদ্মফুলকে ভরসা করেছে মানুষ। যেখানেই ভয়, দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে, সেখানেই সকলে বিরোধী দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করে। আর বাংলাতেও তা হতে দেখছি। খুব বেশি দেরি নেই। ৪ তারিখই ফল হাতে আসবে।










