সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার বিজেপির বিরুদ্ধে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ। দুর্গাপুরে (Durgapur) নেহরুর একটি সুবিশাল মূর্তি ভেঙে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি কংগ্রেসের। অভিযোগের তীর উঠছে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। তবে বিজেপি এই অভিযোগ স্বীকার করতে নারাজ। তাদের দাবি, কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠী এবং তৃণমূল এই অপকর্ম ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগসূত্র নেই।
দুর্গাপুরে জহরলাল নেহরুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তিনি। সেই সূত্রে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনেই দীর্ঘদিন ধরেই ছিল নেহরুর ওই সুবিশাল মূর্তিটি। তবে গতকাল রাখিবন্ধন উৎসবের অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা দরকার ছিল। তাই মূর্তিটিকে ক্রেনের সাহায্যে তুলে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেস নেতাদের। এমনকি তারা বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। তবে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটা তৃণমূলের কাজ। এর সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই। এমনকি তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে রাজীব গান্ধীর মূর্তি বাঁচিয়েছেন।
তবে কংগ্রেসের দাবি, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে কেন এভাবে অবমাননা? কেন মূর্তিটিকে এভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল? কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর দাবি, “নেহরুর মূর্তিটিকে ক্রেন দিয়ে উপড়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাখিবন্ধনের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়কও ছিলেন। নেহরুর এই অপমান আমরা কোনও ভাবেই মেনে নেব না। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। নাহলে আমরা বড়সড় আন্দোলনে নামব।”
আরও পড়ুন: বিবাহবিচ্ছেদের পর সৎ বাবা-ই সন্তানের পূর্ণ অভিভাবক, বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের
তবে এ বিষয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপির বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কংগ্রেসের দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। একটা গোষ্ঠী চোরাভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে। তারাই জহরলাল নেহরুর মূর্তিটিকে ভেঙে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে এসেছে। তবে প্রতিবাদ করে বিজেপির উপরেই দোষ চাপাতে চাইছে কংগ্রেস। দেবেশ চক্রবর্তীকে স্মরণ করিয়ে দিই, একবার এভিএল কার্যালয়ের সামনে তিন-চারটি ইউনিয়নের অফিস ভাঙা হয়। তবে আমার হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটা সেখানে থেকে যায়। নেহরুর মূর্তি ভাঙার পিছনে বিজেপির কোনও যোগ নেই।”










