আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (Aam Janata Unnayan Party) প্রধান হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। সম্প্রতি রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে এবার নিজের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে মুখ খুললেন হুমায়ুন। তিনি জানালেন, এলাকার মানুষের ইচ্ছার কথা মাথায় রেখেই আপাতত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেই পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
কবে রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন হুমায়ুন কবির?
অবসর নেওয়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, তিনি যে অবসরের কথা বলেছিলেন, তা ছিল সাময়িকভাবে জানানো একটি সিদ্ধান্ত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অবসর নেবো বলেছিলাম তাৎক্ষণিকভাবে। তার মধ্যে একটা কথা বলে রেখেছিলাম যে, আমি যেখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তাঁদের সঙ্গে পুজো পর্ব পুরো মিটলে আলোচনা করব। পুজো তো এখনও পুরোপুরি মেটেনি। কালীপুজো বাকি, ছটপুজো, ভাইফোঁটা বাকি। সমস্ত কিছু মিটলে আমি নওদার মানুষের, অর্থাৎ যাঁরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের আপত্তির জন্য নওদা আমাকে রাখতে হয়েছে আর রেজিনগর আমাকে ছাড়তে হয়েছে। তাঁদের সিংহভাগ মানুষ আমাকে ছাড়তে চান না। তাঁরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পাঁচ বছরের জন্য আপনাকে আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। সময় শেষ না হলে আপনাকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে দেব না। এবার মানুষের কথা তো আমাকে মানতে হবে। আগামী দিনে আমি তাঁদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে একাধিকবার আমাদের পঞ্চায়েত, বুথ স্তর বা ব্লক স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করব। আমরা রাজনীতি করব। কিন্তু রাজনীতি করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার পুলিশ প্রশাসন করছে, তার মোকাবিলা কীভাবে করব, তা নিয়ে একটা রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আমি যেমন অবসর নেওয়ার কথা বলেছিলাম, তেমন পাশাপাশি এটাও বলেছিলাম যে, ২০২৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে আমাকে আরও একবার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।”
অর্থাৎ, আপাতত রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না হুমায়ুন কবির। বরং এলাকার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাজাতে চাইছেন তিনি। পঞ্চায়েত থেকে বুথ এবং ব্লক স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টিও যে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ২০২৯ সালের বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তাঁর বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন নতুন কিছু নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেখুন, এটা তো আজ থেকে হচ্ছে না। অনেকদিন ধরেই হচ্ছে চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং বিরোধী দলগুলো, বিরোধী জোট, রাহুল গান্ধী, আরও অনেকে আছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টি, অনেকের নেতৃত্বেই এই আন্দোলন হচ্ছে। রাজনীতি যারা করে, রাজনীতির মঞ্চে যারা টিকে থাকার ইচ্ছা রাখে, তারা শাসকের বিরোধিতা করবেই। আর শাসক উন্নয়ন দিয়ে সেই আন্দোলনের মোকাবিলা করবে, এটাই নিয়ম। বিরোধী দল তো বিরোধিতা করবেই। কারণ, যারা বিরোধী দল হিসেবে থাকে, তারাই পরবর্তীতে মানুষের রায়ে শাসক দলে আসে। আবার যারা শাসক দলে থাকে, তারা মানুষের রায়ে বিরোধী দলে গিয়ে যোগ দেয়। এটাই তো গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র।”
আরও পড়ুন: মমতা, হিমন্ত নাকি যোগী আদিত্যনাথ! দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রী কে? প্রকাশ্যে রিপোর্ট
সব মিলিয়ে, অবসর নেওয়ার ঘোষণা থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা, হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে আপাতত রাজনৈতিক ময়দান ছাড়তে চাইছেন না তিনি। তবে মানুষের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানেই কি অনড় থাকবেন? ২০২৯ সালে নিজের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর রাজনীতি থেকে সত্যিই সরে দাঁড়াবেন, নাকি সক্রিয় রাজনীতিতে থেকেই নতুন করে লড়াই চালিয়ে যাবেন? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।










