সৌভিক মুখার্জি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। সেই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী এবং কন্যাও জড়িত বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। এর আগে ইন্দ্রনীলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল পুলিশ। তবে যেহেতু তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট, তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আইনি ঝামেলায় পড়েছিলেন আধিকারিকরা। তবে এবার ইন্দ্রনীলের কন্যাকে তলব করল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে খবর।
ইন্দ্রনীলের কন্যাকে তলব কলকাতা পুলিশের
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাঁর কন্যাও জড়িত বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। প্রসঙ্গত, ইন্দ্রনীল এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের স্ক্যানারে রয়েছে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। পুলিশের অনুমান, তাঁদের কন্যার অ্যাকাউন্টেও এই টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই কারণেই লালবাজারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে এবং লেনদেনের উৎস জানতে চাইতে পারে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ‘মার্স আর্ট’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি আর প্রিভিউ শোর আয়োজন করে টাকা তুলত ইন্দ্রনীল সেন। ওই সংস্থার সদস্য ছিলেন স্ত্রী মধুছন্দা সেন। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরপর ওই সংস্থা গড়ে ওঠ। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করেই তাঁরা পুজোর পাস বিক্রি করত বলে অভিযোগ। কিন্তু বাস্তবে ইউনেস্কো সেরকম কোনও চুক্তিই করেনি।
আরও পড়ুন: মমতা, হিমন্ত নাকি যোগী আদিত্যনাথ! দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রী কে? প্রকাশ্যে রিপোর্ট
ইতিমধ্যেই পুলিশ ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে। আপাতত তিনি হেফাজতে রয়েছেন। একই মামলায় নাম জড়িয়েছে মধুছন্দা সেনের। তবে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন তিনি। এর আগে একাধিকবার মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। গত ২৮ অক্টোবর সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়ে বেরোনোর পরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে তাঁর আইনজীবী মামলা প্রত্যাহার করে নেন।










