‘জয়ের পর কোনও হিংসায় জড়াবেন না, সংযত থাকবেন!’ গণনার আগে আত্মবিশ্বাসী শমীক

Published:

Shamik Bhattacharya,

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাত কাটলেই ভোট গণনা। সোমবার সকাল আটটা থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের গণনা (West Bengal Election 2026)। ঠিক তার আগের দিন রবিবার সল্টলেকের বিজেপি দফতর থেকে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করলেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বললেন, জয় নিশ্চিত হলেও কোনও ভাবে যেন রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সংযত থাকার নির্দেশ দিলেন তিনি।

আত্মবিশ্বাসের সুর শমীক ভট্টাচার্যের গলায়

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের উপরে যে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, সেই যন্ত্রণার কথা এদিন মনে করেন শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তিনি স্পষ্ট বলেন যে, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আমরা যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, আমাদের পরিবারগুলো যে কষ্টের শিকার হয়েছে, আমরা চাই না অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার সেই একই কষ্ট পাক।

শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এবারের দুই দফার নির্বাচনে মোটের উপর দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, দুই এক জায়গায় অশান্তি ছাড়া। তিনি মনে করেন যে, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই প্রথম একটা ভিন্ন ধরনের নির্বাচনের স্বাদ পেয়েছে। তিনি সবটার কৃতিত্ব দিতে চান নির্বাচন কমিশনকেই। তাই জয়ের পর কোনও রকম হানা-হাঙ্গামা করে সেই কৃতিত্বকে কালিমালিপ্ত করতে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, এই জয় আসলে সংসদীয় গণতন্ত্রের জয় আর মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতার জয়। আমরা চাই বাংলার এই ভোট সংস্কৃতির একেবারে আমূল পরিবর্তন ঘটুক।

পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও কিছু জায়গায় অবাঞ্চিত লোকজনকে জড়ো করে গণনায় গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করতে পারে তারা। বিজেপি কর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন, যেন প্ররোচনায় পা না দেন, এবং ধৈর্য ধরেই গণনা প্রক্রিয়ায় নজর রাখেন।

আরও পড়ুন: কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডের ১ বছরের মধ্যে শুরু বিচার

এদিকে এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষা, সব দিক থেকেই বিজেপি শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। শমীক দাবী করেছেন যে, সোমবারের ফলাফলে বিজেপির জয় নিয়ে সন্দেহের কোনও জায়গা নেই। কিন্তু সেই জয়ের উদযাপন যেন সংযত হয়, আর কোনও রকম হামলা না হয়। সাধারণ মানুষের মনে কোনও ভীতি তৈরি না করেই জয়ের আনন্দ উপভোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।